জীবননগর ব্যুরো: জীবননগর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যান্সারে ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবার ও স্বজনরা দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন। মোশাররফ হোসেন মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে থাকেন। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আফসার আলী মিয়া বয়সজনিত কারণে অবসর নিলে কাউন্সিলের মাধ্যমে মোশাররফ হোসেন মিয়া সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শাসক এরশাদের আমলে তিনি গ্রেফতার হন। সে সময় প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কারাগারে থেকেই প্রার্থী হন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কারামুক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোশাররফ হোসেন মিয়া পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততার জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন। জীবননগর উপজেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.