চুয়াডাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত নির্ভর মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন

 

জনবল সঙ্কট কার্যক্রম ব্যাহত : ভোগান্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলায় দীর্ঘ দিন ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে স্থায়ী জনবল নিয়োগ না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান ২০২৪ সালের নভেম্বরে অবসরে যাওয়ার পর থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি। তার পরিবর্তে জেলার দু’টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে অফিস চালানো হচ্ছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি জেলা অফিসের রুটিন কাজ করলেও জেলার সামগ্রিক তদারকি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে আসা ব্যক্তিরা প্রায়ই শূন্য চেয়ার পেয়ে ফিরে যান। অনেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিকদের খুঁজে বেড়াতে গিয়ে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার চারটি উপজেলায় চারজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সবগুলোই শূন্য রয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার এক সহকারী কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা করে একই সাথে জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে দূরত্ব ১৭ থেকে ৫২ কিলোমিটার হওয়ায় একজন কর্মকর্তার সবগুলো স্থানে নিয়মিত উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জেলায় ১৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৯টি আলিয়া মাদরাসা, ২০টি কলেজ এবং ২টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলসহ মোট ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কমিটি গঠন, বিরোধ নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা সঙ্কটের কারণে কার্যকর নজরদারি প্রায় নেই বললেই চলে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরে একবারও কর্মকর্তাদের পরিদর্শন হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা অফিসের একাধিক পদও দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। জীবননগর উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পদটি খালি। সদর উপজেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এবং দামুড়হুদায় মার্চ থেকে পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী কর্মকর্তাদের পদেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে সম্প্রতি জেলা শিা অফিসের এক হিসাবরককে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী শিা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, স্থানীয় হওয়ায় পূর্বপরিচিত একজন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে গিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতির পর অন্য জেলায় পদায়ন করা উচিত ছিল বলে তারা মনে করেন। জেলা শিক্ষা অফিসে গবেষণা কর্মকর্তা, সহকারী প্রোগ্রামার ও সহকারী পরিদর্শকের পদ থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অভাবে তাদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, পদায়ন কেন্দ্রীয়ভাবে হয়ে থাকে এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More