চুয়াডাঙ্গায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হিমাগারসহ ১৩ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ এই অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের বিদ্যমান সংকট নিরসনে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১৩ দফা সংবলিত একটি দাবিনামা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রিসো এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক জোটের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নিকট এই স্মারকলিপি তুলে দেয়া হয়। দাবিনামা প্রদানকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘কৃষকরা যাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল ও সার পান, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিনামা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতেও আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।’ ১৩ দফা দাবির মূল পয়েন্টগুলো হলো: চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি আধুনিক মৃত্তিকা বা মাটি পরীক্ষাগার স্থাপন। সবজি উৎপাদনে উদ্বৃত্ত এই জেলায় একটি বিশেষায়িত সবজি হিমাগার নির্মাণ। ন্যায্য সেচমূল্য নির্ধারণ ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন। পানি সাশ্রয়ে পরিকল্পিত আধুনিক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্থানীয় নদী, খাল ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত ও সংস্কার করে পানির রিজার্ভার হিসেবে গড়ে তোলা। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘ফ্লেক্সিবল কৃষি ক্যালেন্ডার’ তৈরি। কৃষিপ্রধান এই জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকদের বজ্রপাত থেকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ট্রেনের মাধ্যমে সুলভে কৃষিপণ্য ও সবজি পরিবহনের ব্যবস্থা করা। ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সাব-ডিলার নিয়োগ। সরকারিভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ। কৃষকদের জন্য সরাসরি ভর্তুকি মূল্যে ডিজেল ও সারের ব্যবস্থা করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় শস্য বীমা চালু করা। দাবিনামা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক জোটের সভাপতি এস.এম আব্দুল মোমিন টিপু, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস, জীবননগর উপজেলা কৃষক জোটের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, সদস্য শাহজালাল, আব্দুল কাদির সোহান, কামরুজ্জামান সজল ও জামান আক্তার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘রিসো’র নির্বাহী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম, মনিটরিং অফিসার মো. মামুনুর রশিদসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।