জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত

জীবননগর অফিস:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে শহিদুল ইসলাম (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি মাদককারবারী নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একদল মাদককারবারী ভারতের অভ্যন্তরে মাদক আনতে যাওয়ার সময় এ গুলির ঘটনা ঘটে। শহিদুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। শহিদুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার নস্কার আলীর ছেলে।

শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাসরিন আক্তার দাবি করেন, শনিবার বিকালে মাধবখালী সীমান্তের দোয়ালের মাঠে শহিদুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলো। এসময় বিএসএফ সদস্যরা শহিদুল ইসলামকে ধরে খুব কাছ থেকে গুলি করে। এতে শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে নিহত হন বলে ভারতে আমার পরিচিতজনরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট সুজিত কুমারের বরাত দিয়ে বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম পিএসসি জানিয়েছেন,
প্রথমে বিএসএফের পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাত ৮ টার সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আবারো জানানো হয়েছে শহিদুল ইসলাম নিহত হয়েছে। তার মৃতদেহ পুলিশের কাছে আছে।
স্থানীয়রা জানায়, জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার নস্কার আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামসহ ৬-৭ জন শনিবার বিকালে ভারতে মাদক আনতে যায়। তারা গয়েশপুর সীমান্তের ৭০ নম্বর মেইন পিলার হতে ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পৌছালে ভারতের মাটিয়ারী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। শহিদুল ইসলাম এসময় হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে বিএসএফের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বিএসএফের ছোড়া গুলিতে শহিদুল ইসলাম আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার তার মৃত্যু হয়।