দর্শনা কেরুজ চিনিকলে চুরি করে সরকারি গাছকাটায় কারণ দর্শনো নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার: দর্শনা কেরুজ চিনিকলের বিভিন্ন কৃষি খামারে মরাগাছ ও শুকনা ডাল কাটার অযুহাতে মূল্যবান সব গাছকেটে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম টুটুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ গাছকাটার কারণ জানতে চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শনোর নোটিশ প্রদান করেছেন। নোটিশপ্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। গাছ কাটার প্রমাণ বিদ্যমান থাকায় কি জবাব দেবেন অভিযুক্তরা সেটাই এখন দেখার বিষয়? অনেকেই মন্তব্য করে বলেছেন অতীতেও চিনিকলে বিভিন্ন অনিয়ম ও চুরির ঘটনা ঘটেছে তদন্তে কি হয়েছে তা আর কেউ জানতে পারেনি।
জানাগেছে, চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যে দর্শনা কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ প্রতি মাড়াই মরসুমে বয়লারের জ্বালানির জন্য খড়ি সংগ্রহ করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০-২১ মাড়াই মরসুমে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১১শ মেট্রিকটন জ্বালানি খড়ি ক্রয় করেন। নি¤œমানের খড়ি ক্রয় করার কারণে মাড়াই কার্যক্রম শেষ হবার ১৮ দিন আগেই জ্বালানির খড়ি শেষ হয়ে যায় চিনিকল কর্তৃপক্ষের। মাড়াই কার্যক্রম ব্যবহত হবার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে প্রতিবছরের ন্যায় নিজস্ব কৃষিখামার থেকে মরা শুকনা গাছ ও গাছের ডাল কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বীজ পরিদর্শন ও কৃষিতত্ব বিভাগের ব্যাবস্থাপক দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট খড়ি সংগ্রহ কমিটি গঠন করেন কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে খামার এলাকা থেকে খড়ি সংগ্রহের জন্য চিনিকলের অর্থ বিভাগ থেকে অগ্রীম ২ লাখ টাকাও উত্তোলন করেন তারা। অভিযোগ উঠেছে সুযোগ পেয়ে কমিটির প্রধান দেলোয়ার হোসেন ও আকন্দবাড়িয়া বীজ উৎপাদন খামার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম টুটুল মরাগাছ এবং গাছের ডালকাটার অযুহাতে বন বিভাগের কোনোপ্রকার অনুমতি ছাড়া প্রায় ৩ লাখ টাকার সব সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলেন তারা। গুঞ্জন উঠেছে কর্তনকৃত গাছের কিছু অংশ গোপনে বিক্রি ও কিছু অংশ বয়লারের জ্বালানি হিসেবে চিনিকলে সরবরাহ করেন এবং গাছের মূল্যবান অংশ আত্মসাৎ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে গাছের মূল্যবান অংশ কোথায় গেলো এবং কার জন্য? এ নিয়ে হই চৈ শুরু হলে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও টুটুল কেটে নেয়া গাছের অবশিষ্ট অংশ মাটি দিয়ে ঢেখে প্রমান লুকানোর অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু বিধিবাম! বিষয়টি জানাজানি হলে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গাছ কাটার সত্যতা পান। এ ঘটনায় মরা ডাল কাটার পরিবর্তে গাছ কাটার কারণ জানতে চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শনো নোটিশ প্রদান করেছেন তিনি। সেই সাথে তিন কার্য দিবসের মধ্যে জবাবও দিতে বলা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ না পেয়ে তা বিদ্যমান থাকায় নোটিশের কি জবাব দেন অভিযুক্তরা। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। জবাব হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রধান কার্যালয়কে জানানো হবে।

 

Comments (0)
Add Comment