বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত

 

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: চোখের আলো ফেরানোর এক মানবিক প্রয়াসে আলমডাঙ্গায় নীলা শুকতারা ফাউন্ডেশন ও যশোর আদ্বদীন হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির। বুধবার সকালে আলমডাঙ্গা পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এই আয়োজনে জমে ওঠে মানুষের ঢল। দিনভর এই চক্ষু শিবিরে এলাকার প্রায় ৯ শতাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিপুণ হাতে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পান রোগীরা। শিবিরে শনাক্ত হয় ২ শতাধিক ছানি রোগী, যাদের জন্য খুলে গেছে নতুন আলোর দরজা। সম্পূর্ণ বিনা খরচে তাদের যশোরে নিয়ে গিয়ে ছানি অপারেশন করা হবে এবং অপারেশন শেষে নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রথমদিনই প্রায় ১শ জন রোগীকে যশোরে পাঠানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার বাকীদের পাঠানো হবে। শিবিরের উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা প্রবাসী গবেষক ও সমাজসেবক শেখ আব্দুল কাদির। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পান্না আক্তার বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনো বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। চোখের চিকিৎসা তো আরও বেশি অবহেলিত একটি ক্ষেত্র। নীলা শুকতারা ফাউন্ডেশন ও যশোর আদ্বদীন হাসপাতালের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এতে অসহায় মানুষ সহজেই চিকিৎসা ও পরামর্শ পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে অনেক মানুষ অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে। সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এভাবে এগিয়ে এলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে। নীলা শুকতারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলমডাঙ্গায় চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মানুষকে আর দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার মিশিগান ডেট্রয়েট মেডিক্যাল সেন্টার ও চিলড্রেন হাসপাতাল অব মিশিগানের চিকিৎসক ডা. নাজনীন মাহমুদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, যশোর আদ্বদীন হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এবং নীলা শুকতারা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য খামেদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রাজনীতিক শেখ সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব শেখ আব্দুর জব্বারসহ আদ্বদীন হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন দরিদ্র মানুষের জীবনে সত্যিকারের আশার আলো জ্বালায় যেন অন্ধকারের বুকে একটুকরো সকালের সূর্য।