স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহ্য আর ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে আলমডাঙ্গার পারলক্ষ্মীপুর গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ৫ম ‘মদিন মিয়া স্মৃতি গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬’। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন পারলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল মাঠে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির আসক্তি কাটিয়ে গ্রামীণ কৃষ্টি ও সুস্থ্য বিনোদনের মাধ্যমে যুবসমাজকে উজ্জীবিত করাই ছিলো এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। রোববার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। হরেক রকমের গ্রামীণ খেলাধুলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মদিন মিয়ার স্মৃতিকে অমøান রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী খেলাধুলা শেষে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানভীর আহমেদ তুষার। অতিথি ছিলেন খাসকররা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রন্নু, আইলহাস-লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাইজাল হোসেন, তিয়রবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, খাসকররা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম, কায়েতপাড়া মাধমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহির রায়হান, নওলামারি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, আইলহাস-লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম, খাসকররা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হান্নান, পারলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ আলী, কাবিলনগর নসরুল উলুম আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ। খেলার আয়োজক তানভীর আহমেদ তুষার জানান, ‘আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে স্মার্টফোনের ভার্চুয়াল জগত থেকে বের করে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সুস্থ মননশীলতায় ফিরিয়ে আনা। খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আমি আশাবাদী যে সাংবাদিক, শিক্ষক এবং স্থানীয় সুধীসমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এই আয়োজনকে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব।’ দিনব্যাপী খেলা পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর ও তানভীর। এছাড়াও শিমুল, উজ্জল, আল আমিন, তুহিন, আশরাফুল, সবুর, সজিব, তানজিল, মিন্টু, খালেক, রাজু, রাব্বিল, রাজ, সুলতান, সাব্বির, আবির, টুটুল, চাঁদ ও হাসেমসহ একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সফল করেন।