দামুড়হুদার প‌থে প্রান্ত‌রে মুগ্ধতা ছড়া‌চ্ছে চির‌চেনা ভাটি ফুল

তা‌ছির আহ‌মেদ: দামুড়হুদার প‌থে প্রান্ত‌রে সুন্দর রূপ আর সুবাস ছড়িয়ে মানুষকে মুগ্ধ করছে বস‌ন্তের চির‌চেনা ভাটি ফুল। সাদা পাপড়ির মাঝে হালকা গোলা‌পি আর বেগু‌নি রঙের ছোঁয়া ফুলটি‌কে দি‌য়ে‌ছে অনন্য এক আভিজাত্য। অঞ্চলভেদে ফুল‌টি ভাট ফুল, ঘেটু ফুল, ঘন্টাকর্ণ আবার বনজুঁই নামে প‌রি‌চিত হ‌লেও এতদাঞ্চ‌ল মানু‌ষের কা‌ছে ভাটি ফুল না‌মেই সম‌ধিক প‌রি‌চিত। ফুলটি কেবল সাধারণ একটি বুনো ফুল নয়, এটি আবহমান বাংলার অপরূপ বা অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দামুড়হুদার গো‌বিন্দহুদা মাধ‌্যমিক বিদ‌্যাল‌য়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৃ‌তি‌প্রেমী ইকবাল হো‌সেন ব‌লেন, ফাল্গুন-‌চৈত্র মা‌সে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ভা‌টি ফুল তার মিষ্টি সুবাস আর সৌন্দর্য দিয়ে খুব সহ‌জেই মানু‌ষের নজর কাড়ে। ফুল‌টি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পথচারীরা উপভোগ করেন আবহমান বাংলার আদি বুনো ফুলের অপরূপ। রূপসী বাংলার বা প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশও ভাটি ফুলের প্রেমে পড়ে‌ছেন। তাইতো ক‌বি তাঁর বিখ‌্যাত ‘বাংলার মুখ’ কবিতায় এ ফু‌লের বিরহী রূপ ফু‌টি‌য়ে তু‌লে‌ছেন। এক সময় দামুড়হুদার এখা‌নে সেখা‌নে ভা‌টি ফুল ফুটলেও আধুনিকায়ন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার ফলে এর সংখ্যা অ‌নেক কমে গে‌ছে। এছাড়াও এর পাতা, ফুল ও মূল ভেষজ হি‌সে‌বে ব‌্যবহার হয়।

আয়ু‌র্বেদিক বি‌শেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম ব‌লেন, ভাটি ফুল একটি অত্যন্ত কার্যকর ভেষজ উদ্ভিদ, এর পাতা, ফুল ও মূল বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত চর্মরোগ, জ্বর, কৃমি, আমাশয় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে দারুণ কাজ করে। এর পাতার রস হজমশক্তি বাড়ায় এবং পোকামাকড়ের কামড় বা ফোলা কমাতে সহায়তা ক‌রে। ত‌বে তি‌নি সতর্কতা ক‌রেন, যেকোনো ভেষজ বা কবিরাজি চিকিৎসা গ্রহণের আগে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ কবিরাজি চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভেষজ উপাদানের গুণমান ও মাত্রা সম্পর্কে সতর্ক না থাকলে, ভুল ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দামুড়হুদা উপ‌জেলা কৃ‌ষি সম্প্রসারণ অফিসার আল সাবাহ ব‌লেন, এটি মূলত একটি সপুষ্পক ও বহুবর্ষজীবী ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হওয়া এই গাছের কাণ্ড সোজা দন্ডায়মান। এর পাতাগুলো পানপাতার আকৃ‌তির ত‌বে কিছুটা খসখসে। এর ডা‌লের শী‌র্ষে পুষ্পদন্ডে ফুল ফোটে, দিনের চেয়ে রাতে ফুল বে‌শি ফো‌টে এবং তীব্র সুঘ্রাণ ছড়ায়। এর মনমুগ্ধকর সৌরভে প্রজাপতি, মৌমাছি, পিঁপড়া-সহ নানা প্রজাতির কীট-পতঙ্গ আনাগোনা ক‌রে। এরা ফুলের মি‌ষ্টি সৌরভে ব্যাকুল হওয়া ছাড়াও ফুল থে‌কে মধু সংগ্রহ ক‌রে।