শ্রীলংকায় সর্বদলীয় সরকারের আহ্বান প্রেসিডেন্টের

 

মাথাভাঙ্গা মনিটর: চরম অর্থনৈতিক দুর্দশায় শ্রীলংকা। সর্বত্র মূল্যবৃদ্ধির আগুন। অনেকে দুবেলা খেতেও পারছেন না। ভয়াবহ আর্থিক দুর্দশার প্রতিবাদে দেশটির মানুষ বিক্ষোভ করছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভার ২৬ সদস্যের সবাই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও। সংকট সামলাতে সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তবে এই প্রস্তাব নাকচ করে গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দল।

এদিকে গোটা মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী। সোমবার গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তারা। শ্রীলংকার বামপন্থি পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (জেভিপি) গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। জেভিপির সংসদ সদস্য আনুরা দিসানায়েক বলেন, বিরোধী সংসদ-সদস্যরা এমন একটি সরকারকে কখনো সমর্থন করবে না। প্রধান সংখ্যালঘু বিরোধী দল তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সও (টিএনএ) বিরোধী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে রাজাপাকসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। টিএনএ’র সংসদ-সদস্য আব্রাহাম সুমন্থিরন বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব আমাদের ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা চাই তার পদত্যাগ। একইভাবে প্রধান বিরোধী দল এসজেবিও সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে বলেছে, তারা কোনোভাবেই এমন সরকারে যোগ দেবে না। ঋণে জর্জরিত শ্রীলংকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্য। এ জন্য জ্বালানিসহ অন্য পণ্য আমদানি করতে পারছে না দেশটি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। মূল্যস্ফীতি মাত্রা ছাড়িয়েছে। বাজারে পণ্য নেই। তাই কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় রাস্তায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে নেমেছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় এই জরুরি মুহূর্তে সব নাগরিক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সময় এসেছে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় এ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। অর্থনীতির এমন দূরবস্থার মধ্যে সোমবার শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিথ নিভারদ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি টুইট করেন, মন্ত্রিসভার সবার পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে আমি আজ গভর্নর হিসাবে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। শ্রীলংকার সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক পাইকিয়াসোথি সারাভানামাত্তু বলেন, যদি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ওপর মানুষের কিছুটা আস্থা থাকে তাহলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু মানুষ তো প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বেশি অসন্তুষ্ট।

মানুষের ক্ষোভ নিয়ে সারাভানামাত্তু বলেন, রাস্তায় নেমে যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের দাবি গোতাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে হবে। তিনিই এখন লক্ষ্য।

শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী: শ্রীলংকার অর্থমন্ত্রী হিসাবে বাসিল রাজাপাকসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আলি সাবরি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিএল পেইরিস। এছাড়া দীনেশ গুনবর্ধনে শিক্ষামন্ত্রী ও জনস্টন ফার্নান্দো মহাসড়ক মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। সোমবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তারা।

Comments (0)
Add Comment