চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গায় একাত্তরের সাতটি  স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাখালডাঙ্গা গ্রামে কৃষিজমির সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন অবশেষে এক মাস পর বোমা  নিষ্ক্রিয় করায় এলাকায় জনমনে সস্তি ফিরে এসেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১টায় যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন রিফাত এর নেতৃত্বে  ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। মাইন নিষ্ক্রিয়কালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পের (৩৬ এডি) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রিফাত, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ খালিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব ল্যান্ডমাইন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করে, তখন তারা এগুলো পুঁতে রেখে যেতে পারে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মাখালডাঙ্গা গ্রামের কয়েকটি স্থানে এসব স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাখালডাঙ্গা গ্রামে জমি চাষের সময় স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু দেখতে পান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে সেগুলোকে ল্যান্ডমাইন হিসেবে নিশ্চিত করেন এবং সেগুলোকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়। সেই থেকে ল্যান্ডমাইনগুলো পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়। ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করার এক মাস পর শনিবার যশোর সেনানিবাসের ৭টি ল্যান্ডমাইনগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও মাখালডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ল্যান্ডমাইনগুলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। সে সময় বহু পাকিস্তানি সৈন্য মাখালডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়া ও দিননাথপুর এলাকায় যুদ্ধ করত। যুদ্ধ শেষে তারা চলে যাওয়ার সময় হয়তো ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রেখে গেছে।’

গাইদঘাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনী বড় বড় ব্রিজ-কালভার্ট, ট্রাক, ট্যাংক ধ্বংস করতে এসব ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করত। যুদ্ধের পর প্রায় ৫৫ বছর পার হতে যাচ্ছে। মাইনগুলো হয়ত আগের মতো শক্তিশালী অবস্থায় নেই। তবে, মাইনগুলোর গায়ে হলুদ রঙের লেখা স্পষ্ট ও অবয়ব নতুনের মতনই আছে।

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই জালালও মনে করেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানি বাহিনী এগুলো এনেছিল। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল না আসা পর্যন্ত ল্যান্ডমাইনগুলো পাহারা দেয়া হবে। ল্যান্ডমাইনগুলো কোন দেশের তৈরি বা এর ধ্বংস করা স্বক্ষমতা কি পরিমান এমন তথ্য নিস্ক্রিয় দলের কাছে জানতে চাইলে জানানো হয়। মাইনগুলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীদের ফেলে রেখে যাওয়া।

উল্লখ্য গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কৃষক সাইফুল তার জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা খননকালে মাইনগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এর পর থেকে পুলিশ সেগুলো পাহারা দিচ্ছিল।