প্রাণহীন স্ত্রীকে ছুঁয়ে, সন্তানের মরদেহ কোলে নিলেন সেই সাদ্দাম

স্টাফ রি‌পোর্টার: বাগেরহাটে নয় মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় মা ও শিশুর মরদেহ। এরপর কারাগার অভ্যন্তরে মরদেহ দুটি নেওয়া হয়। সাদ্দাম শেষবারের তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ পান। সাদা কাফনে মোড়া নিথর দেহ। তিনি স্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবার নিজের শিশু সন্তানকে মৃত অবস্থায় কোলে তুলে নেন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ঘটে সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা। সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

স্বজনরা জানান, স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালবাসতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাগারে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্বামীর মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করেও কোন অগ্রগতি হয়নি। ফলে চরম হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশার কারণেই স্বর্ণালী প্রথমে তার নয় মাসের শিশুকে বালতির মধ্যে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

পরিবারসূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসাথে বসবাস করতেন। কারাবন্দি অবস্থায় সাদ্দাম কোন কোন সময় স্ত্রীকে চিরকুট পাঠাতেন এবং দ্রুত তাকে মুক্ত করার কথা বলতেন। এসব কারণে স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, যা পরে তিনি সামাল দিতে পারেননি।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এরপর থেকেই তিনি এখানে বন্দি রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সব নিয়ম মেনে সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। তাদের দেখানোর পর আবার সাদ্দামকে কারাগারে তার নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।