মাথাভাঙ্গা ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে স্বাধীন হয়েছে দেশ। দিবসের নানা কর্মসূচি থেকে উচ্চারিত হয়েছে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ। মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রত্যুষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্মৃতিসৌধে ফুল দেন। এ উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানেও অভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ভোর ৬টার দিকে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাদের রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুটা সময় নীরবে দাঁড়িয়ে জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং মোনাজাতে অংশ নেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সেখানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিচারপতিগণ, তিন বাহিনীর প্রধান ও দেশি-বিদেশি কূটনীতিকরা শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানোর পরপরই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধের মূলফটক। এরপরই ঢল নামে সাধারণ মানুষের। শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ মাস সেই যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হয়েছি। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজ একটি ভিন্ন পরিবেশে আমরা এই স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করতে পারছি। আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত, ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। আমাদের একটাই দুঃখ, এই দিনে আমাদের স্বাধীনতার আরেক সংগ্রামী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই। তিনি আরও বলেন, আজ আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিচ্ছি। আমরা সেই লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো। সকাল ৬টায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তারা স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শফিকুর রহমান সবাইকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমরা একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের একটা সর্বোচ্চ আচার। সকলের মতো আমরাও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম আমাদের বীর শহীদদের প্রতি। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। একইসঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভবন ও বহুতল ভবনেও পতাকা উড়ানো হয়। সকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিকালে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করে প্রেসিডেন্ট।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির উদ্যোগে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে সাহিত্য পরিষদ চত্বরের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা জজকোর্টের পিপি অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি অ্যাড. খন্দকার অহিদুল আলম (মানি খন্দকার ), অ্যাড. জীল্লুর রহমান জালাল, নির্বাহী সদস্য অ্যাড. ইকরামুল হক, হিসাবরক্ষক হাফিজুর রহমান, লাইব্রেরীয়ান মানিক, অফিস সহায়ক তুহিন রাব্বী, সোহাগ, জুয়েল, আনারুল প্রমুখ। প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন, সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান, সহ-সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামান ও মহিবুল হাবিব, প্রোজেক্ট অফিসার আরিফুর রহমান, হামিদুর ইসলাম, খোকন মিয়া, মকলেছুর রহমান প্রমুখ।
সকাল সাড়ে ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার শান্তির প্রতীক শ্বেত কপোত অবমুক্ত করন ও বেলুন উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতায় যোগ করেন আরও একটি পালক। প্যারেড কমান্ডার চুয়াডাঙ্গা পুলিশের আর আই আব্দুস সামাদ জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে আগত ৩২টি দলের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরিদর্শন শেষে অতিথিদ্বয় আবারো পতাকা মঞ্চে আগমন করেন। পতাকা মঞ্চে আগমন করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে মাঠে আগত সকল দলসমূহ এবং মাঠে অবস্থানকারী সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। এ সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সামাজিক ও রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতিনিধিগণ। এরপর চুয়াডাঙ্গা পুলিশের আরআই প্যারেড কমান্ডার আব্দুস সামাদ প্রধান অতিথির অনুমতি নিয়ে অস্ত্রধারী বাহিনীকে মার্চ আউট করান। মার্চ আউট শেষে ক ও খ গ্রুপের মনোজ্ঞ শরীরচর্চা প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন অনুষ্ঠানে ক-খ দুটি গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদেরকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও সকল দলকে সৌজন্য পুরস্কার হিসাবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। কুচকাওয়াজ প্রদর্শনীতে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান লাভ করে সরকারি শিশু পরিবার, দ্বিতীয় গার্লস গাইড চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে গার্লস গাইড ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। কুচকাওয়াজ প্রদর্শনীতে ‘খ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় চুয়াডাঙ্গা রেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান লাভ করে সরকারি শিশু পরিবার, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে রোভার স্কাউট চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে চুয়াডাঙ্গা রেল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ ও মার্চ-পাচ অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন মুন্সি আবু সাইফ, সেলিমুল হাবিব সেলিম, নুসরাত জাহান করবি ও নূর হোসেন। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, ফজলুল হক মালিক লোটন, ইসলাম রকিব, ফিরোজ উদ্দিন, আব্দুল হাই, হাফিজুর রহমান, শামসুন্নাহার শিলা রিপা শাহরিয়ার, বিলকিচ নাহার, আইরিন ইসলাম, ওবায়দুল ইসলাম তুহিন, দিলরুবা খুকু, এম এইচ মোস্তফা, মোস্তফা কামাল, খাজির আলী, মতিউর রহমান মিশর, জুয়েল মাহমুদ প্রমুখ।
বেলা ১১টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, বীর প্রতীক খন্দকার সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিনসহ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকারি কলেজ চুয়াডাঙ্গার বাংলা বিভাগের প্রফেসর সাইদুর রহমান।
বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জমকালো প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন একাদশ, মুক্তিযোদ্ধা একাদশ, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ও চুয়াডাঙ্গা সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় একাদশ। চারটি দলকে দুটি দলে বিভক্ত করে জমকালো এ আয়োজনে ফাইনালে মুখোমুখি হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন একাদশ ও পৌরসভা একাদশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন একাদশের দলনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশের দলনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষে খেলায় অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিকুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন একাদশ ২-১ গোলে পৌরসভা একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। দারুন উপভোগ্য এই প্রীতি ম্যাচে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তার দুই সন্তান রাফি ও সামিকে সঙ্গে নিয়ে শুধু অংশগ্রহণই করেননি, নিজে দলের পক্ষে প্রথম গোলে দারুন অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি দ্বিতীয় গোলটি একাই প্রতিপক্ষের জালে প্রবেশ করান। প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি পরিচালনা করেন আব্দুল হাই ও শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে আয়োজিত এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সকল স্তরের পুলিশ সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এছাড়াও জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দ ও ফোর্সের সদস্যরা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও এডাব চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন, আত্মবিশ^াস, রিসো, পাস, কম্প্যাক্ট, গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে র্যালি শেষে শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিসোর নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পাস’র নির্বাহী পরিচালক ইলিয়াস হোসেন, কম্প্যাক্টের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান, গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান লিপু, আত্মবিশ^াসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলো।
ডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ডিঙ্গেদহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগিতা শেষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মোকলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শঙ্করচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজন। অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইলিয়াস হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন, মাহাবুব হোসেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন, লোকমান হোসেন।
অপরদিকে ডিঙ্গেদহ সোহরাওয়ার্দ্দী স্মরণী বিদ্যাপীঠে আলোচনাসভা, কবিতা আবৃতি ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মিলন সংঘের সভাপতি আব্দুল হাই। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিলন সংঘের সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেন।
আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে আলমডাঙ্গা থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সঠিক মাপের ও রঙের জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে ফাতেহা পাঠ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার বানী ইসরাঈলের নেতৃত্বে শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ও আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল। এরপর শান্তির প্রতিক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার বানী ইসরাঈল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মতিউর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আজগর আলী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহাবুল মাস্টার, জেলা জামায়াতের আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম মাহমুদুল হক, কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সাবুদ্দিন আহমেদ সাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লিয়াকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি সমসের মল্লিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, একাডেমি সুপারভাইজার ইমরুল হক, আলমডাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, বিআরডিবি কর্মকর্তা সেলিম রেজা, জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, আইসিটি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর ররহমান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত জাহান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাখছুরা জান্নাত, তথ্য অফিসার স্নিগ্ধা দাসসহ উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সকাল ৮টায় বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, সিভিল ডিফেন্স, আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার, বিএনসিসি (আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ), স্কাউট (আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়), পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আলমডাঙ্গা একাডেমি, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম সবেদ আলী, এরশাদপুর একাডেমি অংশ গ্রহণে কুচকাওয়াজ প্রদর্শিত হয়। কুচকাওয়াজে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলমডাঙ্গা থানার এসআই আলমগীর কবীর। পরে দিনটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুরূপভাবে, আলমডাঙ্গা থানা প্রশাসন দিনটি উপলক্ষ্যে পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করে। সকাল সাড়ে ৭টায় আলমডাঙ্গার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আজগর আলীর নেতৃত্বে¡ শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে ফাতেহা পাঠ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে উপজেলা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এসএম মাহমুদুল হক, কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ, আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল, আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আজগর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী। হারদী এমএস জোহা কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ একেএম ফারুক হোসেনের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লিয়াকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি সমসের মল্লিকসহ উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বাদ যোহর জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মসজিদে মসজিদে মোনাজাত করা হয়।
অপরদিকে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে দিনটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রত্যুষে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের জাতীয় ও পৌরসভার পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় পৌর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পৌর প্রশাসক পান্না আক্তার। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রশাসকের নেতৃত্বে শহীদ মাজারে পুষ্পার্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আয়োজন মালায় অংশগ্রহণ করেন পৌরসভার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। শহীদ মাজারে পুষ্পার্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মফিজুর রহমানের নেতৃতে, আলমডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন পাতার নেতৃত্বে, আলমডাঙ্গা পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে, এরশাদপুর একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক শামীমের নেতৃত্বে, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে, আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে, আলমডাঙ্গা একাডেমির প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের নেতৃত্বে, আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে, এছাড়াও আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, ওজোপাডিকো, পল্লি বিদ্যুৎ, আলমডাঙ্গা বণিক সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে।
হাটবোয়ালিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়ায় মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ হাউজের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শহীদ মেজর বজলুল হুদার ছোট ভাই মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ধূনা, আব্দুল কাদের, ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউল হুদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিবুল হুদা তুহিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল হুদা, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হুদা, আব্দুর রউফ খোকন, বাজার কমিটির সভাপতি এনামুল হক শিলু, সাধারণ সম্পাদক জান মহাম্মদ, সাবেক সভাপতি রফিকুল হুদা, যুব নেতা শাহীন হুদা, ইউনুস হুদা, ইউসুফ হুদা, হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউল হুদা, বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আবুল বাশার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুজ্জামান লাকি, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক মমতাজুর মুর্শিদ কলিন, নতুন কুঁড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মহাবুল ইসলাম, মেরিট মডেল স্কুলের সভাপতি রাজিব হুদা, পরিচালক শাহাবুল ইসলাম, রাসেল হুদা প্রমুখ। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন কুঁড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেরিট মডেল স্কুল, মাইলস্টোন স্কুল ও হাটবোয়ালিয়া বাজারে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। দিনের শুরুতেই দামুড়হুদা চৌরাস্তা মোড়ে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যদ্বয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদদের স্মরণে উপজেলার নাটুদাহের আটকবর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দুপুরে হাসপাতাল, এতিমখানায় উন্নয়ন মানের খাবার পরিবেশন, সুবিধাজনক সময়ে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেলের সভাপতিত্বে কুচকাওয়াজ, আলোচনাসভা ও ডিসপ্লে প্রদর্শণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। দামুড়হুদা উপজেলা একাডেমির সুপার ভাইজার মো. রফিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নায়েব আলী, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, দর্শনা প্রেসক্লাব সভাপতি একরামুল হক পিপুলসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ প্রমুখ।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদার দর্শনা ও আশপাশ এলাকায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সকাল থেকেই দিনটি ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন দিনভর নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপিসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। দর্শনা পুরাতন বাজারস্থ পৌর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১০টায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেরুজ চিনিকল স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিকেলে দর্শনা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রমানের ‘ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার সভাপতিত্ব করেন দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চুয়াডাঙ্গা জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদার সাবু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল ইসলাম খোকন, মহিদুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক আজাদ হোসেন, দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, বিএনপি নেতা হাজি মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যালিসহ কেরুজ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্মমাল্য অর্পণ করেছেন কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন সাহা, মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূইয়া, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ওমর ফারুক গালিব প্রমুখ।
অপরদিকে, ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দর্শনার হৈবতপুরের ৫ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে স্মরণসভা ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত স্মরণসভার সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ হামিদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মজনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ জাসদের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, উদিচির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি জহির রায়হান প্রমুখ। বক্তারা ৫ শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিষদ স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন। এছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ ৫ শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।
জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, জীবননগরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উদযাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনুষ্ঠানের আলোচনাসভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে ছিলো প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। ভোরে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৮টায় জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল ও থানা অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখ। বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, রোভার স্কাইটস, গার্লস গাইড, জীবননগর ডিগ্রি কলেজ, জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ, জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জীবননগর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উপজেলা ফাজিল মাদরাসা, হাসাদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৌলৎগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জীবননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন তেঁতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আকলিমা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, রাখি প্রি-ক্যাডেট স্কুল প্রমুখ কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লেতে অংশ গ্রহণ করে। সকাল ১০টায় মাধবখালী সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থিত ৬ শহিদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া করা হয়। বেলা ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি রুহুল আমিন। তিনি জীবননগরবাসীকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। দুপুরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন বিকালে প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল আলম রাসেল এক বার্তায় বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির গৌরবের দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। এদিন ভোরেই শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পর্যায়ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, সিভিল সার্জন অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মেহেরপুর প্রেসক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জেলা প্রশাসন একাদশ ও পৌরসভা একাদশ অংশগ্রহণ করে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শহরজুড়ে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পতাকায় সজ্জিত করা হয়। এছাড়াও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি হাসপাতাল, জেলা কারাগার, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
এদিকে, মেহেরপুর জেলা বিএনপি বেলা ১১টায় একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পাথর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পৌঁছায়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি লতিফ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইহান উদ্দিন মনা, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, রোমানা আহমেদ, ওমর ফারুক লিটন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আলমগীর খান ছাতু, সাবেক সদস্য মীর গোলাম ফারুক, সাবেক পিপি ও জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসিম, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এ বাকাবিল্লাহসহ অনেকে। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
গাংনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুরের গাংনীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস, গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক শামসুল আলম সোনা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য নুরুন্নাহার এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান কামরুজ্জামান। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেলা ৩টায় গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুজিবনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুরের মুজিবনগরে ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিনটির শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক ও অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান, মুজিবনগরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আহসান আলী খান, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযুদ্ধা আলহাজ আহসান আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান, উপজেলা অফিসার্স কাব, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজ, সরকারি শিশু পরিবার মেহেরপুর, টুরিস্ট পুলিশ জন মেহেরপুর, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, প্রাক্তন সৈনিক সংস্থা, মুজিবনগর ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ মুজিবনগর, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের পক্ষে আহ্বায়ক আবুল হাসান, সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, মুজিবনগর প্রেসক্লাব সভাপতি মুন্সী আলহাজ ওমর ফারুক, মুজিবনগর উপজেলা জাসাসের পক্ষে সভাপতি ও সঙ্গীত শিল্লী হেলাল উদ্দীন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।
পরে সকাল ৮টায় মুজিবনগর উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা ও মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান। পরে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিএনসিসি এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রোদর্শনের পরে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা শেষে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বেলা ১১টায় বীর মুক্তিযুদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপত্বি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল হুদা। বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর থানার ওসি মো জাহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযুদ্ধা আলহাজ আহসান আলী খান প্রমুখ। দুপুর সাড়ে ১২টায় সুধিজন বনাম সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সৌখিন ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাংস্কৃতি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।