দর্শনায় তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত : স্বজনদের আহাজারিতে ভারী আকাশ-বাতাস
দর্শনা অফিস: জন্মদাত্রী মাকে হারিয়েছিল মাত্র তিন মাস আগে। মাতৃহারা সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজেই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমালো ৩ বছরের শিশু আতিকা। গতকাল বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলগেট এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এই শিশুটি। মায়ের কবরের মাটি শুকানোর আগেই মেয়ের এমন চলে যাওয়া যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না দর্শনার মানুষ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আতিকার বাবা আতাহার জামিল বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত হয়ে বর্তমানে খুলনায় অবস্থান করছেন। মা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর আতিকা তার নানার বাড়ি দর্শনা মোবারকপাড়ায় থাকতো। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আতিকার খালু মোবারক হোসেন তাকে নিয়ে দর্শনা রেলগেটে যান বড় মেয়ে হুমায়রা তাবাচ্ছুমকে আনতে। তাবাচ্ছুম চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। চুয়াডাঙ্গা থেকে কোচিং শেষে তাবাচ্ছুম যখন ইজিবাইক থেকে রেলগেটে নামেন, তখন প্রিয় বড় বোনকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে আতিকা। হাত ছেড়ে দিয়ে এক দৌড়ে রাস্তা পার হতে যায় সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই লোকনাথপুর তেলপাম্পের একটি দ্রুতগামী তেলবাহী ট্রাক (যশোর-ঢ ০১-০০০২) তাকে চাপা দেয়। চোখের সামনেই খালু ও বোনের উপস্থিতিতে পিচঢালা রাস্তায় ছটফট করতে করতে নিথর হয়ে যায় আতিকার দেহ। ঘাতক ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাকসহ তাকে আটক করে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে খুলনা থেকে রওনা হয়েছেন বাবা আতাহার জামিল। আতিকার নানার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে শিশুটির হাসিতে ঘর মুখরিত থাকতো, তার এমন আকস্মিক বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতিকার নিথর দেহের পাশে তাবাচ্ছুমের আহাজারিতে উপস্থিত পথচারীদের চোখেও জল চলে আসে। দর্শনা থানা পুলিশ চালক বিপ্লব কুমার অধিকারিকে (যশোরের বাসিন্দা) আটক করেছে। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ চিৎলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক ট্রাকটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।