লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হাতাহাতি : স্ব স্ব উপজেলায় বিতরণের সিদ্ধান্ত

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ আনতে জেলা প্রশাসনের নেয়া ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে প্রথম দিনেই গ্রাহকদের মাঝে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্ডের আবেদন জমা দিতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং এক ভুয়া সেনা সদস্যের অনধিকার প্রবেশের চেষ্টায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিসি অফিস চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার চারটি উপজেলা থেকে মোটরবাইক চালক, কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহনের মালিকরা সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ধৈর্যের বিচ্যুতি ঘটে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লাইনে আগে-পিছে দাঁড়ানো নিয়ে একাধিক স্থানে হাতাহাতি ও ছোটখাটো মারামারির ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে এক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনী সদস্য পরিচয় দিয়ে লাইন ভেঙে সামনে দাঁড়াতে গেলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সেখানে দায়িত্বরত বিএনসিসি স্বেচ্ছাসেবকরা তার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখতে চাইলে ওই ব্যক্তি দ্রুত সটকে পড়েন। ঘটনার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম বিএম তারিকুজ্জামান জানান, ‘সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত কার্ড সরবরাহ করা হবে। প্রথম দিনে ভিড় বেশি হওয়ায় শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিনামূল্যে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। যারা ইতোমধ্যে ডিসি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তারা আগামীকাল সকাল ৯টার পর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। সাধারণ যানবাহনের জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও কৃষক এবং পণ্যবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা আনা হয়েছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টা পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন। জ্বালানি তেলের দীর্ঘ সংকট নিরসন ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সচেতন মহল স্বাগত জানালেও, কার্ড সংগ্রহে অব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক ভোগান্তি লাঘবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগে গত রোববার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার ২২টি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল (পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল) বিক্রি করা হবে না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সোমবার ও মঙ্গলবার আবেদন গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।