পাখিভ্যান হারিয়ে পথে বসা পরিবারে ইউএনও’র সহায়তায় নতুন স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার :চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক অসহায় কিশোরের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। প্রতারণার শিকার হয়ে জীবিকার একমাত্র সম্বল পাখিভ্যান হারানো কিশোর রাকিব (১৪) ও তার পরিবারের মুখে ফিরেছে আশার আলো।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের কিশোর রাকিবের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল একটি পাখিভ্যান। সম্প্রতি প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সেই পাখিভ্যানটি হারিয়ে যায়। এতে করে রাকিবের পরিবার হঠাৎ করেই চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে পড়ে। অসহায় এই ঘটনার খবর স্থানীয়,  আঞ্চলিক, ও অনলাইনে  সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের নজরে আসে।
এরপর মানবিক বিবেচনায় ১৫/০৩/২৬  রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ইউএনও পান্না আক্তার তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে তাদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও আশার কথাও শোনান।
এ সময় ইউএনও পান্না আক্তার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“আপনারা যদি এমন অসহায় মানুষের খোঁজ পান, অবশ্যই তা সংবাদে তুলে ধরবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কোনো অবস্থাতেই সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না।”
তিনি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া পাখিভ্যান উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রতারণাকারী চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক রোজিনা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“স্যারের এই সহায়তা আমাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। তিনি শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি, আমাদের মনোবলও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয় মানুষও ইউএনও পান্না আক্তারের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি করে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো—যেখানে প্রশাসনের একটি সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত অসহায় একটি পরিবারের জীবনে আবারও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিল।