কালীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের মাছ মাছের আড়তে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন মাছ ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার দিনগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার মাছের আড়তে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ী উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের বদর উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে খাইরুল বাশার (৫০) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বারবাজার এলাকার কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্তরা হলেন, পিরোজপুর গ্রামের ভোলা জর্দারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৫৫), বাদেডিহী গ্রামের জয়নাল বিশ্বাসের ছেলে মেহেদী (৩৫), আয়ুব হোসেনের ছেলে সবুজ (৩০), বাদুরগাছা গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪০), বেলাট গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ফয়সাল (৩৫) এবং দক্ষিন বাদেডিহী গ্রামের ঘেনি খোকনের ছেলে জনি (৩৫)। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি নিয়ে খাইরুল বাশারের সোনারবাংলা মাছের আড়তে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে খাইরুল বাশারকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা পার্শ্ববর্তী শরিফ আহম্মেদের কবির অ্যান্ড ব্রাদার্স মাছের আড়তে হামলা চালিয়ে তার ক্যাশ ড্রয়ার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং হাবিবুরের ভাই ভাই মাছের আড়তে হামলা চালিয়ে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ সময় শরিফ আহম্মেদ ও হাবিবুর বাধা দিলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়েছে, যা প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত আছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় ভবিষ্যতে খুন-জখমসহ আরও ক্ষতি করার হুমকিও দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা এলাকায় চাঁদাবাজ ও সহিংস প্রকৃতির হিসেবে পরিচিত। পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, বাজার দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুক্তভোগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।