দামুড়হুদার জয়রামপুরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ :অর্ধ কোটি টাকা লাভের আশা করছেন কৃষক রানা

হাবিবুর রহমান: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কৃষক রানা আলী প্রথম উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি যেমন আশাবাদী, তেমনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের কৃষকরাও। ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং স্থানীয় উপসহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলামের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন রানা আলী। একই জমিতে সাথি ফসল হিসাবে রয়েছে হলুদ গোলা ফুলের চাষ। আঙুর চাষের সাথে করছেন কলমের চারা। গত বছরের সেপ্টম্বর মাসে উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদোওয়া মাঠে যশোর ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রীনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ব্লাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে এই চাষ শুরু করেন তিনি। চারা রোপণের তিনমাস পর থেকেই গাছে ফুল ফল আসা শুরু হয়। বর্তমানে আট মাসের মাথায় গাছের গিটে গিটে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০দিনের মধ্যেই তিনি বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন। রানা আলী জানান, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, পরিচর্যা শ্রমিক ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। একই শ্রমিকে তার ফুলের বাগান কলমের চারা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকা বিক্রি হলেও তিনি ২০০ টাকা দরেও বিক্রি করতে পারলে প্রায় লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এছাড়া তিনি ১২ হাজার কলমের চারা উৎপাদন করে ইতোমধ্যে এক হাজার ২০০ চারা তিনশত টাকা পিস হিসাবে লাখ ৬০ হাজার টাকার চারা চিটাগাংয়ে বিক্রি করেছেন। এরই মধ্যে চারা বিক্রি করে তার সকল খরচ উঠে প্রায় প্রায় লাখ টাকর লাভ দাঁড়িয়েছে। এখোনো তার ১০ হাজার ৮০০ কলম চারা আছে এতে তার মোটা অঙ্কের লাভ আসবে ৩২ লাখ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগে ক্ষতি না হলে বাজারদর এমন থাকলে সকল খরচ বাদ দিয়ে চারা থেকে ৩০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। ইতোমধ্যে তার বাগান দেখতে প্রতিদিন কৃষকরা ভীড় জমাচ্ছে। অপর দিকে একই ক্ষেতের সাথি ফসল হলুদ গোলাপ ফুল থেকে বড় অঙ্কের লাভ আসবে। সব মিলিয়ে প্রায় একবিঘা জমিতে তার চারা, ফুল আঙুর বিক্রি করে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন। দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এলাকার মাটি আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপয়োগী। সঠিক পরিচর্যা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। রানা আলীর উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।