দামুড়হুদার ঝাজাডাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৫

 

দর্শনা অফিস: জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দামুড়হুদা উপজেলার ঝাজাডাঙ্গা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ৫ জন। একজনের অবস্থা গুরুত্বর। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাজাডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দামুড়হুদার চিৎলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝাজাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান ও প্রতিপক্ষ বকুল-ইসমাইল গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরেই বুধবার সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় আহতরা হলেন-আব্দুল মান্নান (৫০), ছেলে সানোয়ার (২৫) ও আনোয়ার (৩০), একই গ্রামের নফর মন্ডলের ছেলে নুর আলম (৪৫) ও নুর আলমের পিতা আসোশ (৬৩)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আহত আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বকুল ও ইসমাইল গং তাদের ভ্যান কেড়ে নেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তারা মারধর করে এবং হুমকি দেয়। পরে বাড়িতে ফিরে ছেলেদের নিয়ে থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। দর্শনা থানায় যাওয়ার পথে ওই পক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এক ছেলের এখনো জ্ঞান ফেরেনি, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরেক ছেলের মাথা ফেটে গেছে। নুর আলমের হাত ভেঙে গেছে বলে আশঙ্কা করছি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলেও মান্নান জানান। ওপর দিকে  বকুল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জমিজমা নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। তবে তারাই আগে চড়াও হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে উল্টো তাদের আঘাতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। মান্নান ও তার লোকজন কেউ আহত হয়নি। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে চিৎকার-চেচামেচি শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি শুরু হয়। এতে গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।