আলমডাঙ্গায় আগাছা নাশকের নামে কৃষকের স্বপ্নে বিষের ছোবল

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামে এক কৃষকের সবুজ স্বপ্ন মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগাছা দমনের নামে প্রয়োগ করা আগাছা নাশকের কারণে ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ উত্তেজনা  ছড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক আসাননগর গ্রামের মৃত আসমান মন্ডলের ছেলে মস্তক আলী জানান, প্রায় এক মাস আগে ধানের জমির আগাছা দমনের জন্য তিনি আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে আগাছানাশক ক্রয় করেন। কিন্তু প্রথম দফায় প্রয়োগের পরও কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় তিনি আবারও ওই বিক্রেতার শরণাপন্ন হন। দ্বিতীয়বার দেয়া আগাছানাশক নামের বিষ জমিতে স্প্রে করার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তার স্বপ্নের সবুজ ক্ষেত রূপ নেয় পোড়া জমিতে।

ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়া এই কৃষক জানান, একমাত্র ভরসা ছিল এই ধানচাষ। সেই ফসলই এখন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানালে বিক্রেতা প্রথমে ঈদের ছুটির অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান বা ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হতাশা আরও গভীর হয়েছে।

অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলামের বক্তব্যে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি অফিসারের পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।’ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শুধু অদক্ষতারই প্রমাণ দেয় না, বরং কৃষকের জীবনের সঙ্গে ছেলে খেলা করার এক নিষ্ঠুর মানসিকতাকেও প্রকাশ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই বিক্রেতার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক মস্তক আলী। তার চোখে এখন শুধু হতাশা আর অন্ধকার। যে জমি একদিন তাকে আশার আলো দেখাত, আজ সেই জমিই তার জীবনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনা শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গোটা কৃষক সমাজের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। নিম্নমানের বা ভেজাল কৃষি উপকরণ যদি এভাবে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে বাধ্য।

স্থানীয় কৃষকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাজারে কৃষি উপকরণের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিকৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কৃষিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।