আলমডাঙ্গায় ক্রেতা সেজে স্বর্ণের ৩ চেইন নিয়ে চম্পট : স্বর্ণপট্টিতে চরম আতঙ্ক

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গা শহরের ব্যস্ততম চারতলা মোড়ে অবস্থিত ‘রাসমনি জুয়েলার্সে’ ক্রেতা সেজে অভিনব কৌশলে তিনটি স্বর্ণের চেইন লুটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এতে করে পুরো স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দোকান সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা। এমন সময় মুখে মাস্ক পরিহিত আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। সে স্বর্ণের চেইন কেনার আগ্রহ দেখালে দোকানের মালিক প্রশান্ত কুমার সিহি তাকে একে একে তিনটি চেইন দেখান। যুবকটি চেইনগুলো বারবার গলায় পরে এবং আয়নায় দেখে যাচাই করার ভান করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে যুবকটির মোবাইলে একটি ফোন আসে। সে ফোনে কথা বলার ছলে সুকৌশলে দোকানের নাম ও অবস্থান জানিয়ে তার সহযোগীকে মোটরসাইকেল নিয়ে দোকানের সামনে আসতে বলে। কিছুক্ষণ পর দোকানের মালিক কিছুটা অন্যমনস্ক বা ব্যস্ত হয়ে পড়লে, সেই সুযোগে প্রতারক যুবকটি মুহূর্তের মধ্যে তিনটি চেইন নিয়ে দোকান থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। দোকানের সামনে আগে থেকেই স্টার্ট দেয়া অবস্থায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে তার সহযোগীর সঙ্গে উঠে চোখের পলকে স্থান ত্যাগ করে সে। দোকান মালিক প্রশান্ত কুমার সিহি জানান, চুরি হওয়া তিনটি স্বর্ণের চেইনের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ লাখ টাকা। এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ কুমার সাধু খাঁ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনের আলো শেষ হতে না হতেই এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা আমরা ভাবতেই পারিনি। এই ঘটনায় আমরা ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’ এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার বা কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।