চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি রেলগেটে দীর্ঘ ২২ বছরের স্বপ্ন ছাই অগ্নিকাণ্ডে : মেয়ের বিয়ের আনন্দ এখন শুধুই হাহাকার

 

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ২২ বছর অন্যের দোকানে শ্রম দিয়ে তিল তিল করে জমানো পুঁজিতে নিজের একটি দোকান দিয়েছিলেন হাসিবুল হাসান। স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেয়ার। কিন্তু মুহূর্তের এক আগুনে পুড়ল সেই আজীবনের স্বপ্ন, আর সামনে থাকা মেয়ের বিয়ের আনন্দ। গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি রেলগেট এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস সার্ভিসিং দোকানে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে উৎপন্ন এই আগুন নিমিষেই কেড়ে নিয়েছে হাসিবুলের একমাত্র উপার্জনের সম্বল। দোকান মালিক হাসিবুল হাসান জানান, গতপরশু সোমবার রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরেছিলেন। রাত ৩টার দিকে স্থানীয়দের ফোনে যখন খবর পান, ততক্ষণে তার সাজানো পৃথিবীটা আগুনের লেলিহান শিখায় বন্দি। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে পারলেও ভেতরে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তার স্বপ্নগুলো তখন কেবলই এক স্তূপ কয়লা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিবুল বলেন, ‘২২ বছর অন্যের অধীনে খেটে নিজের এই ছোট দোকানটি দিয়েছিলাম। প্রায় ৩ লাখ টাকার নতুন মালামাল আর সাধারণ মানুষের মেরামত করতে দেয়া টিভি, ফ্যান ও ওভেন মিলিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি। কিন্তু বড় বিপদ হলো, আগামী শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ে। মেয়ের নতুন জীবনের আনন্দ মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেল। এখন আমি কোথা থেকে কী করব, কিছুই দিশা পাচ্ছি না।’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানে থাকা গ্রাহকদের মালামালসহ সর্বমোট ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেয়ের বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে একমাত্র উপার্জনের উৎস হারিয়ে হাসিবুল এখন সর্বস্বান্ত। বেলগাছি রেলগেট এলাকার বাতাস এখন তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। নিঃস্ব হাসিবুলের এই চরম বিপদে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা, যাতে অন্তত মেয়ের বিয়ের আনন্দটুকু বিষাদে পরিণত না হয়।