চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শামিমের দাফন : দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা মত

 

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী কেরুজ কৃষি খামারের সামনে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ফুরশেদপুরের শামিমের নামাজে জানাজা শেষে দাফন কার্যসম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে স্থানীয়রা নানা মতামত এবং অভিযোগ তুলে ধরেছেন। অপর দিকে একটি দুর্ঘটনায় ওলট-পালট হয়েগেছে দুটি পরিবারের হিসাব নিকাশ। দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত সোনিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি জানিয়েছেন সোনিয়ার মামা পাকিভ্যান চালক খাইরুল ইসলাম।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরশেদপুর গ্রামের মাঠ পাড়ার মৃত শফি উদ্দিনের ছেলে শামিম হোসেনের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া গ্রামের বিশ্বাস পাড়ার পাকিভ্যান চালক খাইরুল ইসলামের ভাগনি সোনিয়া খাতুনের সাথে। গত পরশু বৃহস্পতিবার নানা শ্বশুর আনছার আলীর বাড়িতে দাওয়াত পড়ে শামিমের। নতুন আত্মীয়ের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে বেড়াতে যাবার জন্য মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী সোনিয়া, শ্যালোকের স্ত্রী শেফালিকে মোটরসাইকেলের পিছনে বসিয়ে হিজলগাড়ী বাজারের দিকে আসছিলেন। রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলটি কেরুজ হিজলগাড়ী কৃষি খামারের নিকট পৌঁছুলে হঠাৎ মোটরসাইকেলের সামনে কুকুরের দল গিয়ে হাজির। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে শামিম মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং একটি গাছের সাথে স্বজোরে ধাক্কামারে। মাথায় প্রচ- আঘাত প্রাপ্ত হয় তারা। আহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। যদিও ঘটনাস্থলেই মারা যায় শামিম। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ফুরশেদপুর গ্রামে বেদনা বিধুর পরিবেশের মধ্যে নামাজে জানাজা শেষে শামিমের লাশের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই হিজলগাড়ী বাজারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছানোদের মধ্যে কয়েজন জানান, বাজারে কয়েকটি পল্টি মুরগি জবাই করে বিক্রির দোকান আছে। দিন শেষে সন্ধ্যার দিকে জবাই করা মুরগির নাড়িভুড়ি দুর্ঘটনার স্থানে রাস্তার পাশে ফেলা হয়। আর এসব মুরগির উৎসৃষ্ট খাবার খাওয়ার জন্য এলাকার কুকুর ভিড় জমাই। খাবার খাওয়া নিয়ে কুকুরে কুকুরে মারামারি করে। প্রায় সময় কুকুরের এ বিরোধ রাস্তার ওপর ঘটে। সন্ধ্যার পর পথচারিরা রাস্তা চলাচলের প্রায় সময় কুকুরের এ বিরোধের মধ্যে পড়ে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে শামিমের মোটরসাইকেলের সামনে। তার উপর মোটরসাইকেলর পিছনে দু’জন নারী একদিকে পা ঝুলিয়ে বসে ছিলো। যা নিয়ন্ত্রণ করা শামিমের জন্য কঠিণ ছিলো। যার কারণে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি শামিম। দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত শামিমের স্ত্রী সোনিয়া চুয়াডাঙ্গা ইউনাইটেড ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোনিয়ার কাছে থাকা মামা পাকিভ্যান চালক খাইরুল ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বাবা হারা মেয়ে সোনিয়াসহ তার মা মানে আমার বোন ও আর এক ভাগনি ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে। অভাবের সংসার তাই বিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে করে আমার বোন চম্পা খাতুনের পরিবারের একজন পুুরুষ মানুষ আসে দায়িত্ব নেয়ার জন্য। সবকিছু এভাবে শেষ হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। সোনিয়ার হাত ও পা ভেঙেগেছে। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই এলাকাবাসীর নিকট আমার অনুরোধ সোনিয়ার চিকিৎসার জন্য একটু সহযোগিতা করুণ।

Comments (0)
Add Comment