ছাগল চুরির সময় হাতে নাতে আটক ৩ : চোরের ধারালো অস্ত্রের কোপে একজন জখম

চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারীর বাগানে সন্দেহজনক অবস্থান : রাতে সড়ক গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি? 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামে দিন-দুপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিতে গোপন মিটিং ও ছাগল চুরি করতে এসে ৩ যুবক আটক হয়েছে। হাতেনাতে আটকের সময় দুষ্কৃতিকারীদের কাছে থাকা চাপাতির কোপে ১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় জনতা আটক ৩ চোরদের গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ করলেও পরবর্তীতে তাদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আটক যুবকদের নিকট থেকে থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্বার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বোয়ালমারী গ্রামের মাহাতাব মোল্লার ছেলে মিল্টনের বাড়ির পেছনে কয়েকজন যুবক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলো। এ সময় মতিয়ার মাস্টারের একটি খাসি ছাগল চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের পাশে চরে বেড়াচ্ছিলো। তারা ছাগলটি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বোয়ালমারী গ্রামের বাছের আলীর ছেলে ইমান আলী টের পেয়ে ছুটে এসে চোর চোর বলে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে একই গ্রামের মৃত মাহাতাব মোল্লার ছেলে মিল্টন মোল্লা ও তার ছেলে নোমান এগিয়ে আসেন। যুবকদের নিকট থাকা ধারালো অস্ত্র চাপাতি দিয়ে মিলটনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা গুরুত্বর। এলাকাবাসী ৩জনকে আটক করে গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের সাথে থাকা বাকিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাছে থেকে ৩জনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ ৩ কনস্টেবল আহত হয় বলে জানা যায়। পুলিশের গাড়ি চালকের দক্ষতায় উত্তেজিত জনতা থেকে আটক তিনজনকে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আংশিক ভাঙচুর করে। গণধোলাইয়ের শিকার চুয়াডাঙ্গা বাগানপাড়ার মিরাজুলের ছেলে আকাশ (২০), ওহিদুলের ছেলে অমিত (১৯) ও ডিঙ্গেদহের সাজুর ছেলে হৃদয়কে (১৯) আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নেয় পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বর্ণনাসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আবু জিহাদ ফখরুল আলম জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোয়ালমারী গ্রাম থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৩ ডাকাত ধরা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ৩ জনকে ধরে গণধোলাই দেয়া হচ্ছে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা বাগানপাাড়ার ওহিদুলের ছেলে আটককৃত অমিত (১৯) ও একই গ্রামের মিরাজুলের ছেলে আকাশ (২০), ডিঙ্গেদহ (শংকরচন্দ্রের স্কুলপাড়া) সাজুর ছেলে হৃদয়কে (২২) পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। আসামিদের কাছে ধাকা ধারালো চাপাতি, ছোরা, দা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত আসামি এবং স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উল্লেখিত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ০৮-১০ দুষ্কৃতকারী সশস্ত্র অবস্থায় বোয়ালমারী গ্রামের আফতাব মোল্লার ছেলে মিল্টনের (৪৫) বাড়ির পেছনে মেহগনি বাগানে অবস্থান করছিলো। এ সময় দুর্বৃত্তরা জনৈক মতিয়ার মাস্টারের একটি ছাগল তাড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের কর্মকা- সন্দেহ হলে, মিল্টন চ্যালেঞ্জ করে। তখন দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র বের করে মিল্টনের ওপরে সশস্ত্র হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা মিল্টনকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মিল্টনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে। স্থানীয় জনগণ ৩জনকে আটক করতে পারলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, মূলতঃ আজ সন্ধ্যা বা গভীররাতে আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করার জন্য ওই স্থানে অবস্থান করে গোপন শলা-পরামর্শ করছিলো। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণসহ খুন করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার দায়ে নিয়মিত মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

Comments (0)
Add Comment