জীবননগরে ছেলের গ্রেফতারের খবরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পিতার মৃত্যু

জীবননগর ব্যুরো: চেক ডিজঅনার মামলায় আদালত হতে জারিকৃত গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামি ছেলে রাশেদের (৪০) গ্রেফতারের সংবাদে পিতা ফকরুদ্দিন (৬৬) ওরফে ফকু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। জীবননগর থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে শহরের আঁশতলাপাড়ার বাড়ি হতে রাশেদকে গ্রেফতার করে। ছেলের গ্রেফতারের খবরে পিতা ফকু স্ট্রোক করলে তাকে রাত ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক জানান তিনি মারা গেছেন। পুলিশ গতকাল বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত রাশেদকে তার পিতার মৃতদেহ দেখিয়ে নিয়ে তাকে চুয়াডাঙ্গা সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে বলে জানা গেছে।

থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জীবননগর লক্ষ্মীপুর ব্রিজের সন্নিকটে বসবাসরত জিয়ার স্ত্রী সায়রা খাতুন ওরফে সানু একজন সুদ ব্যবসায়ী। রাশেদ তার নিকট থেকে ব্লাঙ্ক চেক দিয়ে চড়া সুদে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঋণ নিলেও সময়মতো টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। পরবতীতে ঋণের ৫০ হাজার ও সুদ বাবদ ১৩ হাজার মোট ৬৩ হাজার টাকা তিনি সায়রাকে প্রদান করে। কিন্তু সায়রার দাবি তিনি রাশেদের নিকট সুদ বাবদ আরও ২ লাখ টাকা পাবে। এ টাকা না দেয়াতে সায়রা ব্লাঙ্ক চেকে ২ লাখ টাকা অংক বসিয়ে ব্যাংক হতে চেক ডিজঅনার করে তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারনার মামলা করেন। কিন্তু রাশেদ মামলার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন। ওই মামলায় রাশেদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মধ্যরাতে ছেলের গ্রেফতারের খবরে পিতা ফকরুদ্দিন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। রাশেদ মৃত পিতার লাশ এক নজর দেখার পর পুলিশ তাকে নিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। বিকেলে ফকুকে বেদনা বিধুর পরিবেশে জীবননগর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেছেন, সুদ ব্যবসায়ী সায়রা ওরফে সানুর সুদের কারবার দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। চড়া সুদের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তার বিরুদ্ধে এখই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এরকম মৃত্যুর ঘটনা অহরহ ঘটতে থাকবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

Comments (0)
Add Comment