তদন্তের নামে কালক্ষেপণ : থামছে না নিম্নমানের কাজ

 

জীবননগর ব্যুরো: তদন্তের প্রতিশ্রুতি মিললেও থামেনি অনিয়ম; বরং চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে দেদারসে চলছে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার। স্থানীয় দৈনিকসহ ঢাকার একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ তদারকি কর্মকর্তাদের আশ্রয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী পশুহাট সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ১৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ভিত্তি মজবুত করার জন্য যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আদতে কাদা-মাটি মিশ্রিত। শুধু তাই নয়, নতুন খোয়ার পরিবর্তে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পুরোনো কালভার্ট ভাঙা জঞ্জাল ও নিম্নমানের ইটের খোয়া। সচেতন মহলের দাবি, দিনের আলোয় লোকদেখানো কিছু ভালো সামগ্রী রাখলেও রাতের আঁধারে এসব জঞ্জাল মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে মূল কাজে। উথলী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে গিয়ে দেখা গেছে আরও বিচিত্র চিত্র। সড়ক প্রশস্তকরণের এজিং দেয়ার পর কার্পেটিং করা হয়েছে কয়েক ইঞ্চি নিচু করে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পিচের বদলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পোড়া মবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের জেলা প্রকৌশলী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং পরীক্ষা ছাড়া কাজ চলবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ওই বক্তব্যের দিন থেকেই কাজ সমানতালে অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মইনুদ্দিন বাঁশির ইঞ্জিনিয়ার আলামিন দাবি করেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই সব হচ্ছে।’ চুয়াডাঙ্গা সওজ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দেখতে মাটির মতো মনে হলেও এগুলো কুষ্টিয়ার বালু, ল্যাব টেস্টের প্রমাণপত্র আমাদের কাছে আছে।’ তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন যে বালু হাত দিলে কাদা হয়ে যায়, তা কোন জাদুকরী ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হলো? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার শাহীনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক যোগসাজশ রয়েছে। এই অশুভ আঁতাতের কারণেই নিম্ন্নমানের কাজকে ‘বৈধতা’ দেয়া হচ্ছে। জীবননগরের সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনসাধারণের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত এই সড়ক টেকসই না হলে ভোগান্তি কেবল সাধারণ মানুষেরই বাড়বে।