দর্শনা থানা প্রতিষ্ঠার সাফল্যের এক বছর

৪০৭ মামলার মধ্যে ২৬৬ মামলা মাদকের : গ্রেফতার ১০০১

দর্শনা অফিস: দর্শনা শহর নানাভাবে ঐতিহ্য মন্ডিত। জেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ শিল্প শহর হিসেবে দর্শনার পরিচিতি গোটা দেশেই। দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে থানা হিসেবে উন্নিত হয় গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে। থানার প্রথম অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইন্সপেক্টর মাহাব্বুর রহমান কাজল। (তদন্ত) ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন শেখ মাহবুবুর রহমান। দক্ষতা, দিক নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ২ ইন্সপেক্টর মাদক ও চোরাচালান বিরোধীসহ অপরাধ দমনে কঠোর ভূমিকা রেখে চলেছেন। একদল চৌকস এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়ে লাগাদার মাদক ও চোরাচালানবিরোধী ঝটিকা অভিযান পরিচালনায় এ পর্যন্ত ৬ বার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মাহাব্বুর রহমান কাজল। এছাড়া প্রতিটি মাসিকসভায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন দর্শনা থানার কোনো না কোনো অফিসার। দর্শনা থানার বয়স এক বছর। সাফল্যের প্রথম বছরে পূর্বের থানার সকল রেকর্ড ভেঙেছে। মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার, মাদক কারবারী গ্রেফতারসহ পলাতক আসামি গ্রেফতারের তালিকা অনেকটাই লম্বা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে দর্শনা থানার মামলা সংখ্যা সর্বমোট ৪০৭টি। এর মধ্যে মাদকের মামলা ২৬৬টি। মাদক আসামিসহ সর্বমোট আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ১০০১ জনকে। ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে ৪০৬৪ বোতল, গাঁজা ৯৫ কেজি ১৫০ গ্রাম, ইয়াবা ১০৭২ পিস, বাংলা মদ ৭৪ লিটার, বিদেশি মদ ১৮ বোতল, হেরোইন ৩ পুরিয়া, স্বর্ণ ৬৭ গ্রাম, ভারতীয় থ্রি পিস ৩১, শাল চাদর ১১, শাড়ী ১৬৩, বেডশিট ৪, ক্রিম ২০০ পিসসহ ৪টি বাইসাইকেল। দর্শনা শহরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসবাস। জেলার ঐহিত্যবাহী কেরুজ চিনিকল, কাস্টমস সার্কেল, কলেজ, হাট-বাজার, রেল স্টেশন, বন্দর ইয়ার্ডসহ অসংখ্যা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দর্শনাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে তৎকালীন বৃট্রিশ শাসনামলে স্থাপন করা হয় পুলিশ ফাঁড়ি। দর্শনা পুরাতন বাজার সংলগ্ন পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে দীর্ঘদিন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণেই পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ি থেকে উন্নিত করে সংশি¬ষ্ট বিভাগ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। দর্শনা পোস্ট অফিসের সামনে সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হয় দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন। ১৯৯৯ সালের ২৪ জুলাই এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন আ.লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সেই থেকেই দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগরের প্রাণপণ চেষ্টার ফসল হিসেবে দর্শনা থানায় উন্নীত হয়। অবশেষে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দর্শনা থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সে থেকেই যাত্রা শুরু হয় দর্শনা থানার।
এ ব্যাপারে থানার ওসি মাহাব্বুর রহমান কাজল ও ওসি (তদন্ত) শেখ মাহবুবুর রহমান অভিন্ন ভাষায় বলেন, যেকোন মূল্যের বিনিময়ে মাদককে শূন্যের কোটায় আনার ঘোষণা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। মাদকমুক্ত দেশ গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে নির্দেশ মোতাবেক চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যার মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে ও নেতৃত্বে মাদক মুক্ত থানা গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে মাঠে রয়েছি আমরা। দর্শনা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান রয়েছে অব্যাহত। দর্শনা থানাবাসীর সহযোগিতা এভাবেই অব্যাহত থাকলে অবশ্যই মাদকমুক্ত এলাকা গড়া সম্ভব হবে। তাই আসুন আমরা মাদককে না বলি, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদককারবারী, চোরাচালানী ও অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।

 

Comments (0)
Add Comment