দামুড়হুদার জয়রামপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ ও সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদা উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী অবহেলিত জয়রামপুর রেল স্টেশনে আন্ত:নগর কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন, স্টেশনটিতে প্রয়োজনীয় লোকবল, টিকিটিং ব্যবস্থা, লুপ লাইন চালু, অবকাঠামোগত সংষ্কার ও উন্নয়নের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে জয়রামপুর রেল স্টেশন চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। দামুড়হুদাবাসীর পক্ষে জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচী পালন করা হয়।  মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তারা দ্রুত আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। এছাড়াও স্টেশনে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়নের জোর দাবি তোলা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরো বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। তারা আরো বলেন, আমাদের জয়রামপুর রেল স্টেশন জেলার একটি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশন। রাজশাহী মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনে যেনো সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ আপ ডাউন ট্রেন থামানো হয়। এখানে স্টোপেজের দাবীতে আমরা আজ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করছি। এই লাইনে প্রথম গেদে থেকে জগতী স্টেশন পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হয়। তখন থেকেই এই জয়রামপুর স্টেশন চালু ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এই স্টেশনটি প্রায় বন্ধ হবার উপক্রমে আছে, বলতে গেলে এখন জয়রামপুর স্টেশন বন্ধ আছে। আমাদের দাবী এই স্টেশনটি অতি তাড়াতাড়ি যাতে চালু হয় আমরা জনগণ সেই দাবী জানিয়েছি। জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সেনা সদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকী বলেন, ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেল স্টেশনে আগে স্টেশন মাস্টার ছিল, স্টাফদের থাকার জায়গা ছিল, গেটম্যান ছিল। এখন এখানে আর কিছুই নাই; স্টেশনটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই স্টেশনটি আবার নতুন করে চালু করা হোক এবং সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ ট্রেনের আপ এবং ডাউন স্টোপেজ দাবী করছি, এখানে যেন আগের মত স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুবিবেচনায় দেখবেন এমনটি আশা করেন। মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এসময় মানববন্ধনে দামুড়হুদা মডেল থানার একটি টিম শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সামাল দিতে এবং ট্রেনের কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে মানববন্ধনের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করে প্রশাসন, এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ করা হয়। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক লাজিব আক্তার সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম সদস্য সচিব হানিফ আলী, মূখপাত্র। আমিনুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক, মনিরুল ইসলাম মিলন, জয়রামপুর ডি এস দাখিল মাদরাসার সুপার, শহিদুল ইসলাম, প্রমুখ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম রেল যোগাযোগ স্থাপন হয় দর্শনা গেদে থেকে জগতি। ১৮৬২ সাল থেকে দর্শনা থেকে জগতি রেল যোগাযোগের প্রথম হলেও এলাকার মানুষের দাবি জয়রামপুর প্রথম স্টেশন।