মুর্শিদ কলিন : বর্তমানে রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের অন্তত দশটি জেলায় হামের ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাসেই এই প্রাণঘাতী রোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২০টি শিশু। এছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টাতেই মারা গেছে আরও ৪ জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে এই ভাইরাসটি এতটাই শক্তিশালী যে একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১৮ জন পর্যন্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। দেশের এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় হাম মোকাবিলায় আগাম ও সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও আলমডাঙ্গায় এখন পর্যন্ত কোনো পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যেসব শিশুর শরীরে র্যাশ বা লালচে দানা দেখা যাচ্ছে, তাদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তীব্র জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, শরীরে লালচে দানা এবং শ্বাসকষ্ট হলো হামের প্রধান লক্ষণ। এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশনে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। হামের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগামী ৫ই এপ্রিল, রোববার থেকে বিশেষ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩৬০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। ডা. শারমিন আক্তার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যেসব শিশুর আগে টিকা দেয়া আছে, তাদেরও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বুস্টার ডোজ হিসেবে এই টিকা গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি নয়; এটি সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের মতো স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সরকারি এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল করতে এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।