চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপিতে ডিলারের বিরুদ্ধে চাল চুরির  সতত্যা মিলেছে

বেগমপুর প্রতিনিধি,

অনলাইন ডেস্ক:  চুয়াডাঙ্গা সদর গড়াইটুপি ইউনিয়নের চালের ডিলার হায়দার মল্লিকের বিরুদ্ধে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল চুরির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে বস্তা প্রতি চাল কম দেয়ার সত্যতা পেয়েছে। এদিকে তদন্ত কমিটির নিকট ডিলার হায়দার মল্লিক ছাপাই গেয়ে শাকদিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ভুক্তোভোগিরা জানান।

অভিযোগে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ কেজি দরের চাল বিক্রির ডিলারশীপ পায় তিতুদহ ইউনিয়ন আ.লীগের ১নং সদস্য গিরিশনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হায়দার মল্লিক। তিনি গত ৮ এপ্রিল সরোজগঞ্জ সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে কার্ডধারীর বিপরীতে ৬০৩ (ত্রিশ কেজি) বস্তা চাল তুলে আনেন । ১২ এপ্রিল ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে গড়াইটুপি বাজারে অবস্থিত গোডাউন থেকে কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিক্রি শুরু করেন। ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামের ২৬ জন কার্ডধারী তারা তাদের চাল কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তারা তাদের চাল বাজারের হাজি হারুনের দোকানে মাপযোগ করেন। মাপযোগ করে দেখতে পান বস্তাপতি ১ থেকে ২ কেজি করে চাল কম আছে। বিষয়টি উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে বলেন। জাকির হোসেন তাৎক্ষনিক ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেনকে অবগত করেন। চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে বস্তা পুনরায় মাপযোগ করে তার সত্যতা পান। এসময় চেয়ারম্যান ডিলারের গোডাউনে থাকা কয়েকটি বস্তা মাপযোগ করেন। সেখানেও একই ভাবে প্রতিবস্তায় চাল কম পাওয়া যায়। চেয়ারম্যান বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষনের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা এসিল্যাণ্ড ইসরাত জাহান। এসময় উৎসুক জনতা চাল চোরের বিচার চেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এসিল্যাণ্ডের নিকট ডিলার হায়দার মল্লিক জানান সরোজগঞ্জণ সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে যে ভাবে দিয়েছে তিনি সে ভাবেই এনে বিক্রি করছেন। পরোক্ষনে ডিলার, চেয়ারম্যান, মেম্বর, এসিল্যাণ্ড সকলেই সরোজগঞ্জণ সরকারি খাদ্যগুদামে যান এবং সেখানকার বস্তার চাল ওজন করেন। গুদামের বস্তার চাল মপযোগ সঠিক পান বলে খাদ্যগুদামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোল্লা আহম্মেদ জামান জানান। এঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ অফিসার ডা. এ এইচএম শামিমুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করে দেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আব্দুল হান্না ও যুবউন্নয়ন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে যান এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তদন্তকালে ডিলার, ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার ও কার্ডধারীদের লিখিত জবানবন্দি নেয়ার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করেন। খাসপাড়া গ্রামের চালের কার্ডধারীররা তদন্ত কমিটির নিকট চাল কম পাওয়া এবং বস্তায় ফুট ছিলো বলে জানায়। সেই সাথে ঘটনার দিন প্রকাশ্যে একাধিক বস্তা মেপে চাল কম পাওয়ার যায় বলে স্থানীয়রা কমিটির নিকট মৌখিক ভাবে জানান। এদিকে ডিলার নিজের পক্ষে ছাপায়গেয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার উপসহকারি কৃষি অফিসার নাসির আহম্মেদ বলেন, ডিলার ওই দিন যে চাল বিক্রি করবে আমাকে কোন ভাবেই জানায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ডা.এ এইচ এম শামিমুজ্জামান বলেন, তদন্ত চলমান। সরেজমিনে তদন্তে এসে যা পেয়েছি তার প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করব। প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে চাল চুরির বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ল তার পরও আর কি প্রমাণ পেলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ডিলার হায়দার মল্লিক বস্তায় চাল কম থাকার ব্যাপারে তেমন কোন সদোত্তর দিতে না পরলেও বলেন, আমি কোনো চাল চুরি করিনি।

 

সম্পদনায়, আলম আশরাফ

Comments (0)
Add Comment