মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার: মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এইদিনে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ডক্টর এআরএম সোলাইমান দিবসের উদ্বোধন করবেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনার হলে ‘মওলানা ভাসানীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা’ শীর্ষক সেমিনার, বিকালে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী সরকারিভাবে পালনের দাবি করা হয়। বুধবার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ক্যাম্পাসে অবস্থিত শাহ্ নাসিরউদ্দিন বোগদাদী এতিমখানায় কোরআন খতম ও এতিমদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করা হবে।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের উদ্যোগে ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার সকালে মজলুম জননেতার সন্তোষের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ, ভোরে রাজধানীর নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিলসহ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনাসভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন। এদিন রাজধানী ঢাকা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, অনুরাগীরা মজলুম জননেতা ভাসানীর সন্তোষের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হবেন বলে জানা গেছে। আপসহীন সংগ্রামী নেতা মওলানা ভাসানী সময়োপযোগী ও অগ্রগামী এবং দূরদর্শি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য তিনি জাতীয় নেতার মর্যাদা লাভ করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকা সফরে এলে ভুখা মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি দলের সভাপতি মনোনীত হন। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি কেটে দেয়া নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। তিনি দল ত্যাগ করে কৃষক সমিতি গঠন করেন। ১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে ‘আসসালামু আলাইকুম’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত শাসন সংগ্রামের ডাক দেন। পরে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। মওলানা ভাসানী ১৯৬৪, ১৯৬৫ ও ১৯৬৮ সালের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি হন। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত গঙ্গা নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার এবং মরণফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে সে বছরের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৯৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

Comments (0)
Add Comment