সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত করছে: মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার: গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে মানুষের ভোটের অধিকার নেই। কথা বলার অধিকার নেই। এক কথায় গণতান্ত্রিক কোনো অধিকার নেই। সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় সিনিয়র নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। এ সময় তার (জিয়াউর রহমান) আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ করা হয়।

বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষ জেগে উঠেছে। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও তাদের অধিকারকে ফিরে পাওয়ার জন্য সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেও নজিরবিহীন দুর্নীতি চলছে। ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা গুম-খুন-অন্যায়-অত্যাচারের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। আমরা শপথ নিয়েছি সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করাসহ ১০ দফা দাবি এবং ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন করে পরিবর্তন আনব।’

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামা ওবায়েদ, মীর নেওয়াজ আলী, তাইফুল ইসলাম টিপু, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গণি চৌধুরী, মহানগরের আমিনুল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, রাজিব আহসান, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পেতে সংগ্রাম চালিয়ে যাব: এর আগে সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দলীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে মূলবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বিএনপি সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা, আকাক্সক্ষা ও স্বাধীনতার চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার। কিন্তু আজ স্বৈরাচারী-কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিরোধী দলকে নির্মূল করছে। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি রেখেছে।’

মিথ্যা মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের কী দুর্ভাগ্য শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা, তাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের জন্য কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করা হয়েছে। ৩৫ লাখের বেশি নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।’

মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে; চাল, ডাল ও তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে এবং দেশকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য যে সংগ্রাম শুরু করেছি, তা চালিয়ে যাব।’ এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Comments (0)
Add Comment