ঈদ সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে উপচে পড়া ভিড়- নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, বাজার তদারকি জোরদারের দাবি

শেখ রাকিব:পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার ও নিচের বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের আনাগোনায় বাজারজুড়ে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। ঈদ উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ-মাংস, সবজি ও ফল কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মসলা, সেমাই, চিনি, মাছ-মাংস ও সবজির দোকানগুলোতে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা রাফাত হোসেন, রুহুল আমিন, মোস্তফা কামাল, রাজন আহমেদ, জেসমিন আরা খাতুন, পাপিয়া সুলতানা ও উম্মে হালিমা জানান, ঈদ সামনে থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই তারা বাজারে এসেছেন। তবে তাদের অভিযোগ, কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তারা বলেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি থাকলে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নজরদারি বাড়ালে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা, সুপার তেল ১৭৮ টাকা এবং পাম তেল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে মুগ ডাল ১১০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুসুরির ডাল ৯০ টাকা এবং দেশি মুসুরির ডাল ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলাই ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি।

ডিমের বাজারে প্রতি খাসি মুরগির ডিম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতি খাসি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারে বাদাম ২০০ টাকা, কিসমিস ৯০০ টাকা, এলাচ ৪৬০০ থেকে ৫৬০০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৩০০ টাকা এবং মরিচ গুঁড়া ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের বাজারে স্বর্ণচাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট চাল ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা, বাসমতি চাল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৮৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া ঈদকে ঘিরে সেমাই ও চিনির চাহিদাও বেড়েছে। লুজ সেমাই ৬০ টাকা এবং প্যাকেট সেমাই ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লুজ চিনি ৮০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১০৮ টাকা কেজি।

মাংসের বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ১১০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ২২০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ১৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারে আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, সিম ৪০ টাকা এবং লাউ ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আড়তের পাইকারি বাজারে আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ১৭০ টাকা, রসুন ২৫০ টাকা, আদা ৬৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতি পাল্লা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফলের বাজারে আপেল ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, কমলা ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৫৩০ টাকা, আঙুর ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাকা পেঁপে ৮০ টাকা কেজি এবং ডালিম ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তরমুজ ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নিচের বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদ উপলক্ষে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। মেসার্স সানোয়ার স্টোরের প্রোপাইটার সানোয়ার হোসেন বলেন, আগের তুলনায় পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের কারণে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন।

মেসার্স আসলাম স্টোরের প্রোপাইটার মো. আবু সাঈদ সোভন বলেন, ঈদের সময় বাজারে ভিড় বাড়লে অনেকেই মনে করেন দাম বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।

হায়দার স্টোরের প্রোপাইটার হায়দার হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাজারে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, তাই বেচাকেনাও বেশি হচ্ছে।

রাফিক জেনারেল স্টোরের প্রোপাইটার রুহুল আমিন বলেন, আমরা চেষ্টা করি স্বাভাবিক দামে পণ্য বিক্রি করতে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দাম নিলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ঠিকভাবেই ব্যবসা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই বাজার ব্যবস্থা আরও স্বস্তিদায়ক হবে এবং অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।