স্টাফ রিপোর্টার: আজ ৩০ চৈত্র, বাংলা ১৪৩২ সনের শেষ দিন। আজকের সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের গর্ভে বিলীন হবে আরেকটি ঘটনাবহুল বছর। ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা সনের শেষ দিনটি চৈত্র-সংক্রান্তি হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। রাজধানীতে নাচ, গান, কবিতা, নাটক ও যন্ত্রশিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় বেজে উঠবে পুরানোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণের কর্মযজ্ঞ। বাংলা বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ উপলক্ষে আজ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। চৈত্র-সংক্রান্তি উদ্যাপনে বিকাল ৩টায় একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শিল্পকলা একাডেমির এই অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়েছে ঢাক ঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি উড়ানো, লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বৈশাখী মেলার বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজন থাকছে বর্ষবরণে। চৈত্র-সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে আজ জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-৪ এ উদ্বোধন করা হবে লোকশিল্প প্রদর্শনীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের এ আয়োজনে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে ধামাইল নৃত্য। থাকছে জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে আরও পরিবেশিত হবে লোকসাহিত্যের অন্যতম উপাদান যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। নাচ, গানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে চৈত্র-সংক্রান্তি উদ্যাপন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে চারুকলা অনুষদের চৈত্র-সংক্রান্তির অনুষ্ঠানমালা। চৈত্র-সংক্রান্তি উদ্যাপনে ‘পালা-মেলা : দুই যুগের গল্পকথা’ শিরোনামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নাটকের দল পালাকার। মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটের ছাদে অনুষ্ঠিত হবে পালাকারের এই আয়োজন। এতে পরিবেশিত হবে দলটির জনপ্রিয় কিছু নাট্য প্রক্রিয়ার ছোট ছোট অংশ ও গান। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে খই, মুড়ি, মুড়কি ও বাতাসাসহ বিভিন্ন দেশি খাবার।