আলমডাঙ্গার ফরিদপুর দুটি ইটভাটায় অভিযান

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার ফরিদপুর দুটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ আইন সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে অবস্থিত দুটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী।

 ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ইট প্রস্তুত ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আরএনবি ইটভাটার ম্যানেজার ঠান্ডু রহমানকে লাখ টাকা এবং পাশ্ববর্তী এসএনবি ইটভাটার মালিক জাবুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের অনুমোদন বৈধ লাইসেন্স ব্যতীত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এসব ইটভাটায় নির্ধারিত প্রযুক্তি অনুসরণ না করে কৃষি জমির মাঠি ব্যবহার করে ইট তৈরী করে আসছিল।

সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গার পরির্দশক নাইম হোসেন বলেন, অনুমোদনহীন ইটভাটা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি জনস্বাস্থ্য পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি। ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, ধূলিকণা ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে, যা শিশু, বৃদ্ধ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন, ইট প্রস্তুত ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী নির্ধারিত অনুমোদন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপন পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ছাড়াও প্রয়োজনে ভাটা বন্ধ যন্ত্রপাতি জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহল থাকলেও আইন প্রয়োগে শৈথিল্য দেখানো হবে না। অভিযানকালে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি, আলমডাঙ্গা থানার এসআই সোহাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।