চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে চেকপোস্ট অভিযান শুধু মোটরসাইকেলে জরিমানা, অবৈধ যানবাহনে শিথিলতার অভিযোগ।

ষ্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা জেলায় লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযানে মূলত মোটরসাইকেল চালকদেরই বেশি হয়রানি ও জরিমানার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এছাড়াও স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ যানবাহন আলমসাধু , লাটাহাম্বার, ট্রাক্টার , সহ অবৈধ যানবাহন নীরবে চলাচল করছে, একই সঙ্গে পরিচিত ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হাসান চত্বর, কোর্ট মোড়, একাডেমি মোড়, আলমডাঙ্গা লাল ব্রিজ মোড়, দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড, দর্শনা বাসস্ট্যান্ড, থানা মোড় এবং জীবননগর বাসস্ট্যান্ড মোড়।

এই এক মাসের অভিযানে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ৬০৬টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২৪টি যানবাহন আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্ঘটনা কমানো এবং চালক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক। চালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নিয়মিত মোটরসাইকেল চালাই। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও অনেক সময় অযথা কৈফিয়ত দিতে হয়। জরুরি কাজ থাকলেও দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখাতে হয়, এতে ভোগান্তি বাড়ে। অথচ হেলমেটবিহীন অনেক মোটরসাইকেল, যারা ট্রাফিক পুলিশের পরিচিত, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”

আরেক চালক সাইদুর রহমান জানান, “জরুরি কাজে বের হয়েছিলাম। গাড়ির কাগজপত্র ছিল, শুধু হেলমেট নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। এ কারণে আমাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।”

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এডমিন আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত চেকপোস্টে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহনের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি নসিমন, করিমন, টেকটার, পাওয়ার টিলার, ইজিবাইক ও লাটাহাম্বসহ সব ধরনের অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশির মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন রোধেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিয়মিতভাবে চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আগামী দিনে ধাপে ধাপে জেলার সব ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একে একে এসব বন্ধ করা হবে।”

জেলা প্রশাসক আরও জানান, লাটাহাম্ব, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, পাখিভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন আইনের আওতায় আনা হবে। এসব যানবাহন একদিকে যেমন সড়কে যানজট সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ফেলছে। ভবিষ্যতে আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে শহরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ যানবাহনের দাপটে যানজট ও ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার বাইরে বাস্তবে কতটা সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়।