স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, প্রেসক্লাবের সাথে জেলা প্রশাসনের ভালো হৃদ্রতা রয়েছে। কলম সৈনিকেরা কলম নিয়ে কাজ করবে,সত্যের সন্ধান করবে,জনগণকে জানাবে, সাংবাদিকের এটাই দায়িত্ব। এখানকার সাংবাদিকরা ভালো সংবাদ পরিবেশন করে। আপনাদের খবর দেখে কর্মপন্থার রসদ পাই।
গতকাল সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসন এমন মন্তব্য করেন। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের আমন্ত্রণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রথম বারের মতো গতকাল প্রেসক্লাব পরিদর্শনে আসেন। সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ায় তিনি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান।
জেলা প্রশাসক এসময় বলেন,‘ আপনাদেরে জন্য আমার দুয়ার সবসময় ওপেন। জেলা প্রশাসন,জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলেও লিখবেন। তবে, অনুরোধ একটাই সংবাদ পরিবেশনের আগ সত্যটা যাচাই করে নেবেন। এটা আপনার পেশাদারিত্বেরই অংশ।
এ জেলায় দুইমাসের কর্মকালীন অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,চুয়াডাঙ্গা যোগদানের পর চ্যালেঞ্জ হিসেবে পেয়েছি মাথাভাঙ্গা নদী অবৈধ দখল-দুষণ এবং সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে অবৈধভাবে মাদক ঢুকায় যুবসমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে তামাকের ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে।যা মাদক সেবনের প্রথম ধাপ। সন্ধার পরে এখানে যুবক ছেলেরা বাইরে অযথাই আড্ডা দেয়। অভিভাবকদেরকে অনুরোধ সন্ধ্যার পর আপনার সন্তানকে বাইরে অ্যালাও না করা।’
মাথাভাঙ্গা নদীকে বাঁচাতে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,‘ মাথাভাঙ্গা নদী দুষণের জন্য সরকারি অফিসগুলোই দায়ী। পৌরসভার পয়ঃনিষ্কাষণ এবং পানি প্রবাহিত হওয়ার লাইন একসাথে হয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ছে। পৌরসভাকে আগে ঠিক করা দরকার। সরকারি আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে তাদের সুয়ারেজ লাইনগুলো নদীতে গিয়ে পড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাত দিয়েছি আগে, পৌরসভা কাজ শুরু করেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সাকসেস হবে যদি মাথাভাঙ্গা নদীকে দুষণমুক্ত রাখতে পারি। ’
সম্প্রতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার-পাঁচ বছর বয়সী শিশুদেরকে বাড়তি বইয়ের চাপ ঠেকাতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন,‘মানুষ গড়ার কারখানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব কারখানা কেমন চলছে সেদিকে সকলের নজর দেওয়া জরুরি।’
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের ইলেকশনে নতুন মাত্রা আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই সাথে । এবং এরসাথে যোগ হয়েছে পোস্টাল ভোট। যেহেতু বিগত অনেকগুলো নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে, দেশবাসী এবং উন্নয়নের অংশীদার দেশগুলো অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সরকার এবারের নির্বাচনটা কীভাবে করে। এদেশের জনগণও মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য। আমাদের এখন দায় একটি অবাধ,প্রভাবমুক্ত,নিরপেক্ষ ,সুষ্ঠু নির্বাচন করা। আগে এবং পরের জন্য একটি মডেল হিসেবে থাকে। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে উদাহরণ হিসেবে এটিকে নিতে পারে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এখনও পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসে নাই। আপনাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসলে জানাবেন। সেটা আমার বিরুদ্ধে হলেও। সংশোধন করে নিতে পারব। অভিপ্রায় একটাই সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার কুমার রাজবংশী, নেজারত ডেপুটী কালেক্টর ( এনডিসি) আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। নয়ন কুমার রাজবংশী তাঁর বক্তব্যে বলেন,‘ সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা ,একটি ঘটনাকে ,একটি মানুষকে অন্যের কাছে তুলে ধরতে পারেন, পরিচিত করাতে পারেন। নেগেটিভভাবে কাউকে তুলে ধরার পর যদি মনে হয় এটি ভুল ছিল। সেই উপলব্ধি থেকে পরবর্তীতে কিছু লিখলেও মানুষ তা পড়ে না-দেখেও না। আপনাদেরকে বলব সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সত্যতা যাচাই করে তথ্য-উপাত্ত্বের ভিত্তিতে যদি সংবাদ পরিবেশন করেন,তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হব। ‘
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন জেলা প্রশাসক এবং সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক এবং আমরা পরষ্পরের প্রতিবেশি। জেলা প্রশাসকদের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক সবসময় ছিল। মাথাভাঙ্গা নদী দখল-দুষণ নিয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের প্রশংসা না করে উপায় নেই। আমরা আশা করব,আমাদের সাথে এই সম্পর্ক থাকবে । আমরা পারষ্পপারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গায় উনি যে কদিন আছেন আমরা এখানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবাই মিলে উদ্যোগ নেব। আগে যারা নেতৃত্বে ছিলেন,তাদের হাত ধরেই প্রেসক্লাব আজকের অবস্থায় এসেছে। এবং প্রত্যেকটি উদ্যোগের সাথে জেলা প্রশাসকগণ ছিলেন। বর্তমান জেলা প্রশাসকও প্রেসক্লাবকে আরও সমৃদ্ধির সাথে এগিয়ে নেবে, সেই প্রত্যাশা রাখছি। ‘
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসম্পাদক ইসলাম রকিবের সঞ্চালনায় মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ বর্তমান জেলা প্রশাসক সত্যিই অনেক সক্রিয়। আমি আশা করব চুয়াডাঙ্গাতে উনি যে কদিন থাকবেন, একই ধারায় কাজ করবেন, আমরা তাঁর পাশে আছি।’
সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি সরদার আল আমিন বলেন,‘ বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের পর প্রায় সবখানে তাঁর সরব উপস্থিতি আমরা লক্ষ্য করছি। যতদিন তিনি এ জেলায় থাকবেন ততদিনই এই উপস্থিতিটা চাই।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সরদার আল আমিন আরো বলেন,‘ অগ্রজদের হাত ধরে ১৯৬৬ সালে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। সেই থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন ,তাদের নেতৃত্বের বলিষ্ঠতার কারণে নিজস্ব জমি, নিজস্ব ভবন হয়েছে, এটা বিরল-যা অনেক জেলাতেই নেই। আমি যখন সেক্রেটারি ছিলাম ,সব সাংবাদিক একত্রে ছিলাম,তখন নেতৃত্ব ছিল বলিষ্ঠ। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের একটি নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছিলেন,তাঁরা চলে গিয়েছিলেন। তাদের অনেকেই ফেরত চলে এসেছে। কয়েকজন নেতা সেজে বসে আছেন। ’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের প্রাক্তণ সভাপতি আজাদ মালিতা এসময় বলেন,‘ প্রেসক্লাবের বয়স ৬০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। শত ব্যবস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসক সহকর্মীদের সাথে নিয়ে এখানে এসেছেন। প্রেসক্লাবের ভবিষ্যত ,আগামী দিনের উন্নয়নের জন্য একটু দেখবেন। আমরা সাংবাদিকরা এক পতাকাতলে থাকতে চাই।’
মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
[19/01, 11:52 pm] Sheikh Rakib journalist: মুজিবনগরে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে ১১০টি কম্বল বিতরণ
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মেহেরপুরের সহযোগিতায় অসহায় ও দুঃস্থ শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৪ ঘটিকার সময় মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। চলমান শীত মৌসুমে দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে মুজিবনগর এলাকার মোট ১১০ জন শীতার্ত ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ১১০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইয়ুথ প্রতিনিধি জনাব সাব্বির আহমেদ, মুজিবনগর উপজেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সভাপতি মোসাম্মদ আফরোজা খাতুন লতা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্য গালিব, সুমা, কেয়াসহ মুজিবনগর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সবসময়ই দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকব