চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-ঝিনাইদহের খোলা পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইন : তেলের খোঁজে হাহাকার

লাইসেন্স-হেলমেট ছাড়া মিলছে না তেল : জ্বালানি অস্থিরতায় স্থবির জনজীবন ও কৃষি

স্টাফ রিপোর্টার: এক লিটার তেলের জন্য মাইলের পর মাইল ছোটাছুটি, পাম্পের সামনে তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, আর দিনশেষে খালি হাতে ফেরা। এই চিত্র এখন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের। জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা কাটেনি গত কয়েক দিনেও। চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলোতে হেলমেট ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করায় তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। মেহেরপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা গমের সোনালি শিষ দুললেও ডিজেলের অভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে মাড়াই যন্ত্র। কৃষকের চোখে এখন কেবলই ক্ষতির আশঙ্কা। এদিকে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেট আর কৃত্রিম সংকটের সুযোগে খোলা বাজারে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফের দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। তেলের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলার পাম্পে পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহন চালক ও মালিকরা। তেল সরবরাহ করতে না পারায় অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেন পাম্প মালিকরা। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তেলের কোনো সংকট নেই। সবাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে পাম্পগুলোতে তেল সংকট হয়েছে। এদিকে সীমিত পরিসরে যেসব পাম্পে তেল বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলোর সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও সেই লাইন এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল কিনতে হয়েছে গ্রাহকদের। আবার অনেকে অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরেছেন খালি হাতে। এর মধ্যে তেলের জন্য ছুটোছুটি করতে করতে বাইকে থাকা তেলও ফুরিয়ে গিয়েছে অনেকের। চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকটের প্রেক্ষাপটে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। তেল সংগ্রহে আসা যানবাহনগুলোতে কঠোরভাবে কাগজপত্র যাচাই করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়ম না মানায় মঙ্গলবার ২৪ মার্চ বিভিন্ন পাম্পে অভিযান চালিয়ে মোট ৪টি মামলা দায়ের এবং ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোমবার রাত ৮টার দিকে মাইকিং করে নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, তেল নিতে হলে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে এ নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ শুরু হলে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের তদারকি লক্ষ্য করা যায়। তবে দুপুরের পর তদারকির উপস্থিতি কিছুটা কমে এলেও প্রতিটি পাম্পে পুলিশের টিম অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখে। জানা যায়, সকালে চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনে এবং দুপুরের দিকে মোজাম্মেল হক ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হয়। তবে আলমডাঙ্গার পাম্পগুলো সকালের সময় বন্ধ ছিলো তবে সন্ধায় চালু হয় আলমডাঙ্গার ফিলিং স্টেশন গুলো সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাতের মধ্যেই আলমডাঙ্গার ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল ফুরিয়ে যায়। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গার অন্যান্য পাম্পগুলোতে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ সিরিয়াল হচ্ছে। তবে কোথাও কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। পাম্প মালিকরা বলছেন, চাহিদার কারণে তেল সরবরাহ শুরুর দুই থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই পাম্পে মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেয়া হলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। আলমডাঙ্গার মোটরসাইকেল চালক পারভেজ বলেন, আলমডাঙ্গায় তেল না থাকার কারণে সকালে চুয়াডাঙ্গায় এসেছি ‘দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছি।’ কোম্পানির এসআর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোটরসাইকেল চালক শোভন বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেছে, এখন মার্কেটে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমার কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।’ রাজীব নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে, চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।’ চুয়াডাঙ্গা সদরের ডিঙ্গেদহ এলাকার এক কৃষক বলেন, তিন বিঘা আবাদ রয়েছে স্যালোইঞ্জিন এর মাধ্যমে ফসলে পানি দেয়া হয়। ‘পাঁচ লিটার তেল দরকার, কিন্তু পাচ্ছি দুই লিটার।’ আলোকদিয়ার কৃষক রবিউল বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে তেলের অভাবে জমিতে পানি দিতে পারিনি। আজ দুই লিটার তেল পেয়েছি, যা যথেষ্ট নয়-আরও তেল লাগবে।’ সার্বিকভাবে জ্বালানি তেলের এই সংকট জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক পুলিশের টিআই (অ্যাডমিন) আমিরুল ইসলাম জানান, ‘জেলার সকল পাম্পে ট্রাফিক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। নিয়ম না মানায় মঙ্গলবার কয়েকটি মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।’ এদিকে পাম্পে সরবরাহ সংকট থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই দাবি করছেন, প্রতি লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পাম্প মালিকদের মতে, অতিরিক্ত চাহিদা এবং অসাধু চক্রের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছাড়া তেল বিক্রি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষিখাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ নেই, মাঠে পাকা গম কাটার মতো প্রস্তুত, কিন্তু ডিজেলের অভাবে হারভেস্টার নামছে না জমিতে। ঝড়-বৃষ্টিতে নুয়ে পড়া গম ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকের চোখে এখন শুধুই ক্ষতির হিসাব। মেহেরপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট এখন শুধু একটি সরবরাহ সমস্যাই নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি বড় ধরনের কৃষি ও মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জেলায় মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ১৪টি, আর ৩টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তবে চালু থাকা স্টেশনগুলোতেও তেলের সংকট চরমে। জেলার ১০টি ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ২টিতে সীমিত পরিসরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না থাকায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন সকালে তেল আনতে গাড়ি পাঠানো হলেও আজ কোনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তারা আশা করছেন, যদি আগামীকাল তেল আসে, তাহলে হয়তো বুধবার থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে পরিস্থিতি। তবে বর্তমানে ডিপো থেকে প্রতিটি পাম্পে সর্বোচ্চ ৩ হাজার লিটার তেল দেয়া হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়েই প্রতিটি চালু স্টেশনের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫ হাজার লিটার। এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। সীমান্তবর্তী কৃষিনির্ভর এই জেলায় চলতি মরসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গমের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকরা। চৈত্রের শুরুতেই মাঠজুড়ে পাকা গমের সোনালি শিষ দুলছিল। কিন্তু কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে সেই গমের শিষ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে হারভেস্টার সংকট। ডিজেলের অভাবে মাড়াই মেশিন মাঠে নামছে না, ফলে পাকা গম সময়মতো ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক আনসার আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগেই আমার গম কাটার উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু মেশিন না পাওয়ায় গম মাঠেই শুকাতে শুরু করেছে। এর মধ্যে আবার আকাশে মেঘ জমায় তার দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। একই গ্রামের কৃষক লিটন আহমেদ বলেন, হারভেস্টার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা ফোন ধরছেন না। তাদের দাবি, ডিজেল না থাকায় মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে গম মাড়াইয়ে বর্তমানে বিঘা প্রতি ২৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই খরচ ছিল ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা। আরেক কৃষক মজিদ আহমেদ বলেন, ঈদের আগেই আমার গম কাটার উপযোগী হয়েছিল। কিন্তু মাড়াইয়ের মেশিন না পাওয়ায় কাটতে পারেননি। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক গম মাটিতে পড়ে গেছে। এখন মেশিন না পেলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। শ্রমিক দিয়েও কাটার সুযোগ নেই, কারণ অধিকাংশ শ্রমিক এখন ইটভাটায় কাজ করছেন। হারভেস্টার মেশিন মালিক জমির উদ্দিন বলেন, তেল না থাকলে মেশিন চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে বেশি দামে মজুদদারদের কাছ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, এতে তারও লোকসান হচ্ছে। একইসঙ্গে বেশি খরচের কারণে কৃষকদের কাছ থেকেও বেশি টাকা নিতে হচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ছেন তারা।

শুধু ফসল কাটাই নয়, তেলের অভাবে সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় জমিতে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরসুমে মেহেরপুরে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৬৬ টন, যেখানে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪.১ টন। সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের এই সংকট পরিবহন খাত ছাড়িয়ে সরাসরি কৃষকের জীবনে আঘাত হেনেছে। মাঠে পাকা ফসল থাকলেও তা ঘরে তুলতে না পারার বেদনা এখন মেহেরপুরের হাজারো কৃষকের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নেই এমন অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়া হলেও, একই তেল খোলা বাজারে বোতলজাত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে এলাকায় তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাম্পে তেল না পেয়ে তারা বাধ্য হচ্ছেন রাস্তার পাশে ও গ্রামাঞ্চলের অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনতে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ড্রামভর্তি অবস্থায় বাইরে নিয়ে গিয়ে বোতলজাত করে প্রতি লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। ঢাকাগামী এক মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পে তেল নেই বলা হলেও রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অধিক মুনাফার আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। পাম্প মালিকরা অবশ্য ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকার কথা উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মেশিন বিকল বা তেল শেষ, এমন অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এদিকে অতিরিক্ত দামে তেল কিনে পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কোনো পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষণার বাইরে বাস্তবেও যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সংকট নিরসন করা হয়।