দাবি নয় এটি আমাদের অধিকার : প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

দর্শনাকে উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসীর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

 

দর্শনা অফিস: দর্শনাকে উপজেলায় উন্নীত করার দাবিতে দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমেছে সর্বস্তরের জনতা। দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবি এখন এই অঞ্চলের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দর্শনাকে উপজেলা করা এখন আর কেবল প্রত্যাশা নয়, এটি নাগরিক অধিকার। এই অধিকার আদায়ে সব ধরনের কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে প্রস্তুত দর্শনার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে দর্শনা কেরুজ বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘চাই চাই, দর্শনাকে উপজেলা চাই’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সভায় বক্তারা উপজেলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ডাক দেন। সমৃদ্ধ ইতিহাস ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক সীমানা ছোট হলেও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতিতে দর্শনা এদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ শহর। ১৯৩৮ সালে এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ও দেশের সর্ববৃহৎ কেরুজ চিনিকল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হয়। এছাড়া ১৮৬২ সালে বাংলাদেশের প্রথম রেলপথ (দর্শনা-জগতি) এই জনপদেই নির্মিত হয়েছিলো। বর্তমানে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশন ও ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ভারতের সাথে যোগাযোগ ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের কোষাগারে রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রেও দর্শনা অনন্য। কেরুজ চিনিকল, কাস্টমস ও ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। প্রশাসনিক যৌক্তিকতা বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়া দর্শনা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ভোগ করছে। ইতোমধ্যেই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করা হয়েছে। দর্শনা পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী পারকৃষ্ণপুর-মদনা, কুড়ুলগাছি, বেগমপুর, নেহালপুর, গড়াইটুপি ও তিতুদহ ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠন করা হলে প্রশাসনিক কাজ আরও গতিশীল হবে। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘ সময় দর্শনা অবহেলিত ছিল, কিন্তু এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদার সাবু, দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড অ্যাড. শহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, অন্যতম সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল, আলহাজ মশিউর রহমান, সাংবাদিক শরীফ উদ্দীন, ইকবাল হোসেন, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুল আলম মোল্লা, নাট্যকার আনোয়ার হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, সাহিত্যিক আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা আজিবর রহমান, আব্দুল হামিদ, কেরুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইকরামুল হক, ইমাম সমিতির নেতা হাজি মাও. নুরুল ইসলাম, শিক্ষক স্বরুপ দাস, ভালোবাসার বন্ধনের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ তরফদার, নুরুন নবী সুমন, সালাউদ্দিন লিমন, দর্শনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলমগীর মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তির্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, যুবদলনেতা টুটুল শাহ, অপু সুলতান, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিংকু, রকিবুল হাসান ব্রাইট, চুয়াডাঙ্গা জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্নআহ্বায়ক আবিদ হাসান রিফাত, সাবেক শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম লুল্লু, দর্শনা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মোফা, সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন,  দর্শনা অনেক আগেই উপজেলা হওয়ার উচিত ছিলো। রাজনৈতিক ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে এখন সময় এসেছে আমাদের প্রাণের দাবী পূরণের। উপজেলার দাবীতে আজ জেগেছে এলাকাবাসি। এ আন্দোলন সফল হবেই হবে। দর্শনা উপজেলায় উন্নিত হবে এটাই সকলের দাবীতে পরিণত হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, রাশেদ মল্লিক, রিয়েল ইসলাম লিওন, নাসিম আহমেদসহ একদল যুবক।