স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে দুই ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার, নির্বাচনি পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্র-১৭ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনার পর প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণীর ভিত্তিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ করা হবে এবং তা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত ‘প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে প্রকাশ করা হবে। এই কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন ও প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা এবং নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আলাদাভাবে জানানো হবে। এসব তথ্য পাওয়ার পর ভোটগ্রহণের দিনের আগেই রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে কোন কর্মকর্তা ফলাফল প্রেরণ করবেন, তা নির্ধারণ করে জানাতে হবে।
ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটকেন্দ্রের অবস্থা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রেরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকাও আগেই চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর সচল রয়েছে কিনা এবং ইন্টারনাল সাইট বা নেটওয়ার্ক কার্যকর আছে কিনা, তা আগাম যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে নির্ধারিত নমুনা অনুযায়ী ‘বার্তা প্রেরণ শিট’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে পাঠাতে হবে। ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে বার্তা প্রেরণে কোনো সমস্যা হলে বা বিলম্বের আশঙ্কা থাকলে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বার্তা শিটে রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরেও আংশিক ফলাফল পাঠানো যাবে। তবে চূড়ান্ত বার্তা অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরে প্রেরণ করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে থাকা ইএমএস সফটওয়্যারের ফলাফল ব্যবস্থাপনা মডিউল ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলাফল এন্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে আগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।