স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারীরা।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, আমরা স্বৈরাচারী সরকার দেখেছি, আমরা ফ্যাসিবাদী সরকারও দেখেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের সঙ্গে যে ধরনের মিথ্যাচার শুরু করেছেন, তাতে আমরা আপনাদের জাতীয় মিথ্যাবাদী বলতে চাই না কারণ আমরা অপমান চাই না, আমরা চাই ন্যায্য অধিকার। আমরা পে-স্কেল চাই। এই পে-স্কেলের টাকা দিয়ে আমরা জমি কিনতে চাই না, বউয়ের জন্য গয়না কিনতে চাই না, ছেলে-মেয়েকে আমেরিকা কিংবা লন্ডনে পড়াতেও পাঠাতে চাই না। আমরা এই পে-স্কেলের টাকা দিয়ে শুধু চাল-ডাল কিনে একটু খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করার অজুহাতে আমাদের আন্দোলনবিহীন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি এক বছর ধরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আজ আমাদের স্পষ্ট করে জানাতে হবে এই বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, কারা এর জন্য দায়ী, এবং কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে কি না।
আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চাই। জনগণের অর্থের হিসাব জনগণকেই দিতে হবে এটাই ন্যায়ের দাবি। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন আমাদের অধিকার, কোনো দয়া নয়। এই ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরব এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দৃঢ় থাকব।
দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন কাঠামো থেকে বঞ্চিত। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। আমাদের দাবি খুব বড় কিছু নয়, আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট আমরা নবম পে-স্কেল চাই।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, উপ-সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা এবং সিনিয়র সভাপতি, সমন্বয় পরিষদ, হামিদুর রহমান
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মেশিন অপারেটর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়,আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌহিদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস, সাধারণ সম্পাদক, শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন।