গাংনীতে জনসভায় গণপকেটমারের ঘটনায় মামলা দায়ের : গ্রেফতার ১

বাদি হলেন মেয়র

গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনীতে সোমবারের জনসভায় গণপকেটমারের ঘটনায় গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মফিজ খাঁকে (৫৮) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
মফিজ খাঁ খুলনা জেলার রূপসার মৃত মোজাহার খাঁর ছেলে। জনসভাস্থলে পকেটমারের সময় হাতেনাতে ধরে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিলো জনতা।
মামলার বাদী গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী জানান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেনের জনসভায় জনতার ঢল নামে। এ জনসভার সাথে গাংনীবাসীর সম্মান জড়িত। পকেটমারেরা গণহারে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল নিয়ে অনুষ্ঠানে কালিমা লেপন করেছে। যাদের টাকা ও মোবাইল খোয়া গেছে সেসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। তাই থানায় মামলা করেছি। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশের প্রয়োজনীয় তথ্য উৎঘাটনের মাধ্যমে পকেটমার গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করতেই হবে এবং খোয়া যাওয়া টাকা ও মোবাইল দ্রুত উদ্ধার করে এর মালিকদের বুঝিয়ে দিতে হবে। দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দাবি জানান তিনি।
গতকাল সকালে গাংনী থানায় পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী মামলাটি দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি জনতার হাতে আটক হওয়া মফিজ খাঁ। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মেয়র আহম্মেদ আলীর পকেট থেকেও ৬০ হাজার টাকা পকেটমারা হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইলফোন ও টাকা পকেটমারা হয়। টাকা ও মোবাইল খোয়া যাওয়া বেশ কয়েকজনের নাম এবং মোবাইলের মডেল ও আইএমই নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
জানা গেছে, জনসভাস্থলে যখন প্রতিমন্ত্রী প্রবেশ করেন সেই সময় স্কুলের গেট থেকে মঞ্চ পর্যন্ত ব্যাপক সমাগম ছিলো। সকলে যখন জনসভা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই পকেটমার গ্রুপের লোকজন তাদের কাজ হাসিল করে। গ্রেফতার হওয়া মফিজ খাঁর বিরুদ্ধে থানা ও আশেপাশের থানায় মামলা রয়েছে। মফিজ ও তার চক্রের লোকজন এ পূর্বপরিকল্পিতভাবে পকেটমার কাজ করার জন্যই জনসভায় এসেছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এর সাথে এ এলাকার কেউ জড়িত আছে কি-না তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গ্রেফতার মফিজের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, মেয়রের দায়ের করা মামলাটি এজাহারভুক্ত করে গ্রেফতারকৃত মফিজকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে পুলিশ। মফিজকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পকেটমার গ্রুপের লোকজনকে গ্রেফতারসহ মোবাইল ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More