চুয়াডাঙ্গার দোস্তে চিত্রানদী খননে গ্রামবাসীর চরম দুর্ভোগ : একটি সাঁকোর অভাবে ঘুরতে হচ্ছে ৪ কিলোমিটার রাস্তা

 

বেগমপুর প্রতিনিধি: আর্থসামাজিক উন্নয়নে চুয়াডাঙ্গার দোস্ত গ্রামের পাশ দিয়ে সম্প্রতি খনন করা হয়েছে চিত্রা নদী। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে খাল খননের কাজ করা হলেও সে খাল আজ গ্রামবাসীর কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালের ওপর ব্রিজ/সাঁকো না থাকায় গ্রামবাসীকে ৪ কিলো রাস্তা ঘুরে কৃষি কাজ করতে জমিতে যেতে হচ্ছে। তাই গ্রামের নিচ দিয়ে বর্তমানে একটি সাকো তৈরী করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সাকো নির্মাণ করা না গেলে গ্রামের কৃষকেরা সময় ও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

জানাগেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘৬৪টি জেলার অভ্যন্তরীন ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পূনঃখনন প্রকল্প ১ম পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গার চিত্রানদী পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত, কুন্দিপুর, কুঁকিয়াচাঁদপুর শ্রীকোল এলাকার চিত্রানদীর ১০ কি.মি. পুনঃখনন কাজ প্রায় শেষের পথে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে এমনটায় প্রত্যাশা ছিলো এলাকাবাসীর। কারণ বর্ষা মরসুমে পর্যায়ক্রমিক বন্যা, শুষ্ক মরসুমে পানির দু®প্রাপ্যতা ও ভূ-গর্ভস্থ পানির নিচে নেমে যাওয়া ইত্যাদি সমাধান হবে। এসবের সমাধান করতে গিয়ে দোস্ত গ্রামবাসী নতুন সমস্যায় পড়েছে। কারণ গ্রামের অধিকাংশ লোকের চাষাবাদের জমি গ্রামের দক্ষিণ পাশে। চাষাবাদের জমিতে যাওয়ার আগেই খনন করা হয়েছে চওড়া খাল। ফলে কৃষকদের মাঠে যেতে প্রায় ৪ কিলো রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এতে করে সময় ও অর্থ দুইটায় নষ্ট হয়। তাই গ্রামবাসীর দাবি অন্তত গ্রামের মাঝ বরাবর একটি সাঁকো তৈরী করে চাষাবাদের কাজটি যাতে সহজে দেখভাল করা যায়। এ সাঁকোটি তৈরী করতে বেশ কিছু অর্থের দরকার। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। বিষয়টির প্রতি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

উল্লেখ্য, এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে হাট-বাজার বসতো। তার কারণ ছিলো নদীপথে পরিবহনের সুবিধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সড়কপথের যতোই উন্নতি করা হোক না কেন নদীপথের স্থান দখল করতে পারেনি। দীর্ঘ কয়েক যুগে নদীপথের দিকে সরকারের দৃষ্টি কম থাকায় এক্ষেত্রে অচলাবস্থা বিরাজ করছিলো। অনেক নদী মরেও গেছে। যা বর্তমানে টিকে আছে তাও এখন ভরাট হয়ে সরু খালের দশায় উপনিত হয়েছে। অনেক এলাকায় নদী মরে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজের জন্য সেচব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তাই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু নদী খনন করলেই চলবে না। নিতে হবে নদীর শাখা-উপশাখা খননের প্রকল্প। কারণ নদীর শাখা-উপশাখা না থাকলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত হবে। তাতে করে কৃষক ফসল ফলাতে পারবে না। দেশের জিডিপির বড় অংশই আসে কৃষকের কাছ থেকে। উৎপাদন ভালো হলে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে। তাই নদী খননের পাশাপাশি খাল খননেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দেশের নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা নিঃসন্দেহে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এতে দেশের মানুষ উপকারভোগী হবেন তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে বর্তমান সরকার নদীকে পুনঃজীবিত করতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন কাজ শুরু করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদী ফিরে পাবে তার হারানো গতিপথ। কৃষি-সেচ ও মৎস্য স¤পদের হবে উন্নয়ন। রক্ষা পাবে জীব বৈচিত্র্য ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। সেই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠবে সবুজ বনায়ন বেষ্টনি এমনটায় মনে করছেন বিষেজ্ঞরা।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More