চুয়াডাঙ্গার রেল পাড়ার ১৫টি বাসা থেকে সাপ্লাই পানির মিটার চুরি

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ৫নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ টি বাসা থেকে পৌরসভার সাপ্লাই পানির জন্য সরবরাহকৃত পানির মিটার চুরি হয়েছে। গত রোববার রাতের কোনো এক সময় সঙ্গবদ্ধ চোরেরা মিটার চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতোপূর্বে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ১নম্বর ওয়ার্ড ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ ৯টি ওয়ার্ডেই অনুরূপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন আগে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ তার ওয়ার্ড এরিয়া থেকে চোরাই মালামালসহ এ চক্রের কয়েকজন সদস্য আটক করেছিল। সে সময় তাদেরকে আইনে সোপর্দ করা হলেও পরবর্তীতে আবারও এ চোর চক্রটি চুরি কার্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহাব্বুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি জেনেছি, এই চক্রটি ইতিপূর্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে যেকোন মূল্যে পয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। পানির মিটার চুরি বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, আমি যখন পৌরসভার মেয়র ছিলাম না, তখন এডিবির মাধ্যমে ইউজীপ -৩ প্রজেক্ট এর আওতায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় পানি সাপ্লাই এর মিটার স্থাপন করা হয়। তবে নানা জটিলতার কারণে এই মিটার গুলো পানি সাপ্লাই এর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটি পৌরসভার নিজেস্ব সম্পদ। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার-ই? এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, বিষয়টি আসলে ওই প্রোজেক্টের কাজের বিধিমালা অনুযায়ী মিটারগুলো দৃশ্যমান করে রাখতে হবে বাসা বাড়ির বাইরে। সেভাবেই মিটারগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো সংরক্ষণের জন্য যে পরিকল্পনা দরকার সেটি গ্রহণ করা হয়নি। বিধায় এটি একের পর এক চুরি হতেই আছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে একাধিকবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী (পানি) আব্দুর রশিদ বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি’র) ইউজীপ-৩ প্রজেক্টের এর অধীনে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৬,১২৫টি মিটার স্থাপন করা হয়েছিল। প্রজেক্ট এর নিয়ম অনুসারে এটি বাইরে স্থাপনের নির্দেশ থাকলেও এ মিটার গুলো ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কোন বাসাবাড়িতে পানি সাপ্লাই করা হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা রেল পাড়া থেকে পানির মিটার চুরি হয়ে যাওয়া কয়েকজন বাসার মালিক বলেন, অকার্যকর মিটারগুলো চোরেরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিয়মিত পানির বিলও পরিশোধ করছি। কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়া পানির পাইপ লাইনের মেরামতের জন্য আমাদেরকেই গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা । কারণ এটি পৌরসভার মিটার। লাইন ব্যবহার ও পানি ব্যবহারের জন্য আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করছি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More