তরুণীকে ডেকে আনা হয় কৌশলে, ঘরে ঢুকতেই শুরু করে নির্যাতনসহ ভিডিও ধারণ

ভারতে কয়েকজন মিলে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, টাকা নিয়ে বিবাদ মেটানোর কথা বলে তাকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনা হয়েছিল। বেঙ্গালুরু পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ মেটানোর কথা বলে মেয়েটিকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে আনা হয়েছিল। যারা তাকে ডেকে আনেন তাদের বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তার ওপর চরম সহিংসতা শুরু হয়। অভিযুক্তরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং যৌন ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। তারা এসব দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।
২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওই তরুণী পুলিশকে জানান, তিনি অভিযুক্তদের চিনতেন। তাদের দু’জন তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। চক্রটি থেকে আলাদা হয়ে তিনি বেঙ্গালুরু থেকে কেরালার কোজিকোডে চলে যান এবং সেখানে একটি ম্যাসেজ পার্লারে কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে অভিযুক্তরা টাকা-পয়সা নিয়ে তার সঙ্গে বিবাদ শুরু করে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ছাড়াও আমরা অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে আরও দুটি ভিডিও উদ্ধার করেছি। তারা তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে ভিডিও রেকর্ড করেছে। ক্লিপগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার হুমকি দিয়েছিল তারা। ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা ওই তরুণীর দুই বছর আগে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনার এক পর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বেঙ্গালুরু পুলিশ বলছে, ওই তরুণীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পাঠানো হয়েছিল, সেখানে তাকে দেহ ব্যবসায়ে ঠেলে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর হোটেলে নর্তকির কাজও করেন। কেরালা থেকে যারা মেয়েটিকে উদ্ধার করেন তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে বেঙ্গালুরু পুলিশ আরও জানায়, আমিরাত থেকে কয়েক মাস আগে দূর সম্পর্কের আত্মীয় মোহাম্মদ বাবা শেখ মেয়েটিকে ভারতে এনে পতিতিবৃত্তিতে বাধ্য করেন। বাবা শেখ ভুক্তভোগী মেয়েটির এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে বিয়ে করেছেন। নির্যাতনের ঘটনায় বাবা শেখের স্ত্রীও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই বাবা শেখ ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে তরুণীদের ভারতে বিউটি পার্লারে বা গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও কেরালায় নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে ফাঁদে ফেলে এই দলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী মেয়েটি পুলিশের কাছে যাননি বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মেয়েটি তার প্রেমিককে ফোন করেছিলেন এবং ঘটনার একদিন পর তাকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দু’জন আবার কোজিকোডে ফিরে যান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More