দামুড়হুদায় দিনদুপুরে গয়নার দোকানে ও রাতে ডুগডুগির ৬ বাড়িতে চুরি

 

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জুয়েলার্সের দোকানসহ ৬ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি গ্রামের কলোনিপাড়ার ৬ বাড়িতে ও শনিবার দিনে দামুড়হুদা উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তার মোড়ে সততা জুয়েলার্সের দোকানে পৃথক পৃথক ওই চুরির ঘটনা ঘটে। একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী এখনও পর্যন্ত কোনো চোরকে আইনের আওতায় নিতে পারেনি। তবে একের পর চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দিনগত রাতে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি গ্রামের কলোনিপাড়ার ৬টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পৃথক পৃথক ৬টি বাড়ি থেকে একটি বৈদ্যুতিক মোটর, ৪টি গাবলা, ১টি হাঁড়ি, ১টি কড়াই, ৬টি লুঙ্গি ও একটি লোহার শাবল চুরি করে নিয়ে যায় চোরে। একই গ্রামে গত কয়েকদিন আগে বিজয় ঘোষের ১টি বৈদ্যুতিক মোটর, স্বপ্না খাতুনের ২৬টি শাড়ী, ৪টি থ্রি-পিচ ও ৮টি কাঁথা চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও গত আগস্ট মাসে দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রাম থেকে স্যালোমেশিন চুরি ও প্রাইমারি স্কুলের তালা ভেঙে চুরির চেষ্টা করে চোরে। পূর্বের ওই সকল ঘটনায় কাউকেই আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। তবে দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হাউলী ইউনিয়ন। আর এ ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক। স্থানীয়দের ধারণা মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতার কারণেই হয়তো এ ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতোটা খারাপ।

এদিকে, গতকাল শনিবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানা থেকে ১০০ গজ দূরে চৌ-রাস্তার মোড়ের সততা জুয়েলার্স থেকে দিনদুপুরে গয়না সাজানো ট্রলিসহ ১০টি আংটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫০-৬০ হাজার টাকা।

গয়নার দোকানের মালিক নূর হাকিম কলম জানান, বেলা ১১টার দিকে লাল রংয়ের বোরকা পরা মুখ ঢাকা এক মেয়ে সোনার চেন বিক্রি করে পায়েল কিনতে আসেন। আমি তাকে আমার দোকানের পায়েল দেখায় এবং তার সোনার চেনের ওজন করে দরদাম করি। সোনার চেনের দাম অনুযায়ী টাকা ক্যাশে না থাকায় আমি তাকে বসতে বলে টাকা আনতে যাই। কিছুক্ষণপর দোকানে এসে দেখি মেয়েটি দোকানে নেই। পরক্ষণেই দোকানে প্রবেশ করে দেখি সোকেসে সাঁজানো ট্রলিগুলোর মধ্যে আংটির ট্রলিটি নেই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির কোনো সন্ধান পাইনি।

দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়ন বিট পুলিশিং অফিসার এসআই সোয়াদ বীন মোবারক বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো না তো তাই হয়তো নিম্ন ও মধ্যবৃত্ত শ্রেণির কেউ কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুরির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনার অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি জানামাত্রই অফিসার পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। খুব শিগগিরই চুরির ঘটনা উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More