বিয়ের আধাঘন্টার মাথায় নববধূর আত্মহত্যা

বেগমপুর/আন্দুলবাড়িয়া প্রতিনিধি: বিয়ের ঘন্টাখানেকের মাথায় গলায় ফাঁস দিয়ে নববধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শ্বশুড়বাড়িতে যাওয়ার আধাঘন্টা পরই আত্মঘাতি হয়ে ওঠে নববধূ রাফি ওরফে রাখি খাতুন। পরিবারের পক্ষ থেকে ওপরদৃষ্টির কথা বলা হলেও অনেকেই ধারণা করছেন ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ায় নববধূ এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। গত বুধবার ঈদের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর বিলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাখি খাতুন জীবননগর উপজেলার আনছারবাড়িয়া স্টেশন পাড়ার ফারুক আহমেদ স্বপনের মেয়ে। মেয়েপক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে আন্দুলবাড়িয়া খাঁজা পারেশ সাহেবের রওজা কবরস্থানে রাখি খাতুনের মরদেহ দাফন করা হয়।
জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের বেগমপুর বিলপাড়ার মুনছুর আহম্মেদ ওরফে প-িত খাঁ’র ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ খান (২৫) ঈদের আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। পারিবারিকভাবে দেখাশোনা করে ঈদের দিন রাত সাড়ে ১১টার দিয়ে বিয়ে করে আনেন জীবননগর উপজেলার আনছারবাড়িয়া স্টেশনপাড়ার ফারুক আহমেদ স্বপনের মেয়ে আন্দুলবাড়িয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী রাখি খাতুনকে (১৮)। ভাবিকে সাথে নিয়ে নববধূ হিসেবে স্বামীর বাড়ি বেগমপুর বিলপাড়ায় যায় রাখি। রাত ১২টার দিকে বিয়ের পোষাক পরিবর্তন করার জন্য একটি রুমে যায় সে। রুম থেকে তার বের হতে তার দেরি দেখে বাড়ির লোকজন জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে রাফি গলাই ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে রাশেদের বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মৃতপ্রায় অবস্থায় রাখিকে উদ্ধার করে। খবর দেয়া হয় রাখির বাড়িতে। গুরুতর অবস্থায় তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে পেয়ারাতলা নামক স্থানে পৌঁছুলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের প্রাথমিক সুরাতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। মেয়েপক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতন্দ ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার দিকে তার লাশ জানাজা শেষে আন্দুলবাড়িয়া খাঁজা পারেশ সাহেবের রওজা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের ওপরদৃষ্টির কারণে সে এমনটি ঘটিয়েছে বলে বলা হলেও অনেকেই ধারনা করছেন, রাফির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তারা মা-বাবা বিয়ে দেয়ায় সে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়।
বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের এসআই আসলাম বলেন, রাফিকে যখন উদ্ধার করে তখনও জীবিত ছিলো। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আর মৃত্যুর ঘটনাস্থল জীবননগর থানাধীন এলাকায় হওয়ায় আর বেশি খোঁজ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More