রাশ পূর্ণিমায় অষ্টম প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে চলে আসছে এ আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার: আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে শুরু হয়েছে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান। অষ্টম প্রহরব্যাপী দু’দিনের এ মহানামযজ্ঞে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ প্রসাদ গ্রহণ করছেন। যোগ দিচ্ছেন হরিনাম পরিবেশন আসরে। দেশের প্রখ্যাত পাঁচটি দল হরিনাম পরিবেশন করছে। আজ বুধবার দিনান্তে সমাপনী ঘটবে এ যজ্ঞের। মুন্সিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ও তার পরিবার দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এই মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা তার স্ত্রী ববিতা আগরওয়ালা ও দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বোন পুষ্পা রানী আগরওয়ালা অষ্টম প্রহরব্যাপী এ মাহানামযজ্ঞের আয়োজন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। আজ বুধবার সমাপনী ঘটবে অনুষ্ঠানের। প্রয়াত গোবিন্দ কুমার আগরওয়ালার মেয়ে মুন্সিগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক পুষ্প রানী আগরওয়ালা বলেন, পিতৃদেব গোবিন্দ কুমার আগরওয়ালার স্মরণে আমরা এ মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। সকাল থেকেই রান্নাবাড়া ও প্রসাদ খাওয়া চলছে অনবরত। টানা দুদিন চলবে। স্বর্গীয় গোবিন্দ কুমার আগরওয়ালার একমাত্র ছেলে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘রাশ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাবার স্মৃতির স্মরণে আমরা নিজ বাড়িতে এ নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এই বাড়িতে প্রতি বছর আমরা মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি।’ আয়োজক কমিটি জানায় এবারের মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে দেশের পাঁচটি শিল্পী দল হরিনাম পরিবেশন করছে। গোপালগঞ্জের উত্তম কৃষ্ণ দাসের দল গোপাল কৃষ্ণ সম্প্রদায়, ঝিনাইদহের রবিন বিশ্বাসের মদন-মোহন সম্প্রদায়, রাজবাড়ীর অচিন্ত বৈরাগীর নবদ্বীপুশ্রী সম্প্রদায়, মাগুরার অসিম সরকারের রূপশ্রী সম্প্রদায় ও একই জেলার দেবাংশু বিশ্বাসের নিতাই গোউর সম্প্রদায় হরিনাম পরিবেশন করছে। মহানামযজ্ঞকে ঘিরে জেহালা ও মুন্সিগঞ্জ বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান। মুন্সিঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শঙ্কর কুমার পাত্র ও সহকারী শিক্ষক পবন কুমার দেবনাথ মাথাভাঙ্গাকে বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ বাজারের স্বর্গীয় মদন বাবুর নাতি ছেলে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা পারিবারিকভাবে যে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। এখানে দুদিনের অনুষ্ঠানে হাজারো নারী-পুরুষ যোগ দিচ্ছেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করছেন। একদিকে রান্নাবাড়া অন্যদিকে খাওয়া দাওয়া চলছে বিরতিহীনভাবে। আর আরেকদিকে দেশের খ্যাতিমান সব শিল্পী ও তাদের দল হরিনাম বা কীর্তন পরিবেশন করছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More