একান্ত আলাপচারিতায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার – আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের নাম এবারের কোরবানি এবং করোনা

ইসলাম রকিব: এবাবের কোরবানি ও করোনা নিয়ে “দৈনিক মাথাভাঙ্গার” সাথে একান্ত আলাপ চারিতায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবারের কোরবানি ও করোনা আমার জীবনের একটি নতুন অভিজ্ঞতার নাম। সারা পৃথিবীব্যাপী করোনা যে দুর্যোগের সৃষ্টি করেছে তা মানিয়ে নিয়েই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এবার উদাপিত হতে যাচ্ছে। দুটিই কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। তবে দুটি-ই আলাদা এবং বিপরীত মুখী। এ পরিস্থিতিতে কোনোটিকেই অবহেলা করলে চলবে না। সর্তক থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই মহান সৃষ্টিকর্তার ধর্মীয় বিধান পালন করতে হবে। একই সাথে আনন্দ এবং বেদনার সহ-অবস্থান হওয়ায় এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা অথাৎ কোরবানি আমার জীবনের নতুন অভিজ্ঞতার নতুন মাত্রার জন্ম দিয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা মেনে সারা বছর যেভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকি তার চেয়ে বাড়তি সর্তকতাসহ এবাবের ঈদে আমার পুলিশ সদস্য ও আমাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে। পবিত্র ঈদ উদযাপন ও আনন্দ ভাগাভাগি হয়তো বিগত বছরের মতো হবে না। তবে ধর্মীয় উৎসব পালন জনগণের জন্য নির্বিঘœ এবং নিশ্চিন্ত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি। এ ধরনের উৎসবে সাধারণত জনগণ গ্রামের বাড়িতে চলে যায় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই শহরের অলিতেগলিতে শাদা পোশাকে ও পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সদা প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো প্রকার অঘটন থেকে নিস্কৃতি ও জনগণের যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ছায়ার মতো।

ঈদের দিন কিভাবে কাটাবেন এবং কাদের সাথে কাটাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, করোনা সম্পর্কে জনসচেতনতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃংখলা রক্ষা করার কাজ তো সবার আগে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে এ জেলায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের সাথে দিনটি অতিবাহিত করবো। স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পুলিশের ঈদ ও কোরবানি উদযাপনে যে অর্থ দেয়া হয়েছে তা দিয়ে সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বড় খানার আয়োজন করা হবে, তাদের উপহার প্রদান এবং করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের ঈদ উদযাপনে পারিবারিকভাবে পাশে দাঁড়ানো, যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন তাদের খোঁজখবর নেয়া হবে। যদিও ইচ্ছা ছিলো এবারের ঈদ উৎসবের আনন্দটি এতিম শিশুদের সাথে ভাগাভাগি করে নিবো। কিন্তু এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হবে না। এ জেলায় আমার ৩৫ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছে। ৩১ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে। তাদের খোঁজখবর সবার আগে নেয়া হবে।

কোরবানি কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশ প্রধান বলেন, এখানে আমি একা একা কোনো কোরবানি দিবো না। আমার নামে আমার গ্রামের বাড়ি মাগুরাতে কোরবানি দেয়া হবে। চুয়াডাঙ্গায় সকল পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে গরু ও খাসি কোরবানি দিবো।

করোনাকালীন ঈদুল আজহা উদযাপনে জেলাবাসীর প্রতি আপনার ম্যাসেজ কি?  সে প্রশ্নের জবাবে মানবিক পুলিশ সুপার বলেন, আমি চাই আমার জেলার একটি মানুষও যেন পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার উৎসব সবার। একই সাথে জেলাবাসীকে বলবো পৃথিবীর এ দুর্দিনে আপনিই আপনার পরিবারের সকলকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন, ভিড় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করুন ও হাসপাতালে আসুন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করুন, নিজে সর্তক থাকুন পরিবারের সকলকে সর্তক থাকতে সহায়তা করুন এবং শিশু ও বয়স্কদের সাথে মানবিক আচরণ করুন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More