দর্শনায় বিরোধপূর্ণ সীমানা পাঁচিল ভেঙে ফেলার দাবি মহল্লাবাসীর : পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

দর্শনা অফিস: দর্শনা দক্ষিণচাঁদপুর জুম্মাপাড়ায় পাল্টাপাল্টি সীমানা পাঁচিল নির্মাণকে কেন্দ্র করে দ্ব›েদ্বর সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করলেও অপরপক্ষে রয়েছে মহল্লাবাসী। উভয়পক্ষ দিয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। সুষ্ঠু তদন্তসহ দুটি পাঁচিল ভাঙার দাবি তুলেছে মহল্লাবাসী। দর্শনা পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত সড়কের ওপর পাঁচিল তুলেছেন বলে অভিযোগে উঠেছে দক্ষিণচাঁদপুরের ফজলু মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে জাহাঙ্গীর হোসেন টানা ৪ মাস ঘরবন্দি মানববেতর জীবন-যাপন করছেন বলেও দাবি তুলে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে ফজলু জানিয়েছেন পৌর মেয়রসহ মহল্লাবাসীকে। গত বছরের ১০ অক্টোবর দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণচাঁদপুর জুম্মাপাড়ার করিম মণ্ডলের ছেলে ফজলুর মিয়ার (৫০) সাথে দ্ব›দ্ব হয় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের। এতে ফজলু মিয়া তার বাড়ির জমির সীমানা নির্ধারণ করে পাঁচিল নির্মাণ করলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীর। সরেজমিনে গেলে উভয়পক্ষই পরপস্পর বিরোধী বক্তব্য দেন। ফজলু ও তার পরিবারের লোকজন বলেছে, আমি পাঁচিল নির্মাণের আগে জাহাঙ্গীর অপর দিকে সীমানা পাঁচিল নির্মাণ করেন। এতে মহল্লার কমপক্ষে ২শ পরিবার স্থানীয় গোরস্তান, প্রস্তাবিত মসজিদ ও কৃষি কাজে মাঠে যাওয়ার রাস্তা অবরোধ হয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরকে পাঁচিল অপসারণের জন্য বলা হলেও তিনি তা করেননি। ফলে আমিও নিজের জমির ওপর পাঁচিল নির্মাণ করেছি। তাছাড়া জাহাঙ্গীরের চলাচলের বিকল্প পথও রয়েছে। জাহাঙ্গীর পাঁচিল অপসারণ করার সাথে সাথে আমিও করে নেবো। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই দাবি করছি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। এদিকে জাহাঙ্গীর বলেছেন, আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার একটিমাত্র পথ যা ফজলু আটকে দিয়েছেন। তার নিজের পাঁচিল নির্মাণের ব্যাপারে বলেছেন, এদিকে কোনো রাস্তা ছিলো না। আমার বাড়ির ওপর দিয়ে মদ-মাতালি ও মাদক কারবারীদের চলাচল করতে দেবো না বিধায় সীমানা পাঁচিল দিয়েছি। মহল্লার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ বলেছে, গোরস্থান ও প্রস্তাবিত মসজিদে যাওয়ার সড়ক বন্ধ করা জাহাঙ্গীরের উচিৎ হয়নি। জাহাঙ্গীর শুধু সীমানা পাঁচিল নির্মাণই করেননি। পৌরসভা থেকে নির্মিত রাস্তার ইটও তুলে ফেলেছেন। আমরা চাই ফজলু ও জাহাঙ্গীর উভয়েই পাঁচিল অপরসারণ করুক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবচিত্র পত্রিকার প্রতিনিধি আব্দুল হান্নানকে হুমকি-ধামকির অভিযোগ ওঠে ফজলুর বিরুদ্ধে। এতে নিন্দা ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। ফজলু অস্বীকার করেছে হান্নানকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি। দর্শনা পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান খালেকুজ্জামান, ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নেফাউর রহমান মন্টু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, এ ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন দুটি পরিবারের মধ্যে দ্ব›দ্ব চলছে। যা নিরসনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) পাঁচিল অপসারণের জন্য পৌর কাউন্সিলরকে নির্দেশ দিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান খালেকুজ্জামান জানান, এমন কোনো নির্দেশনা আমাকে দেয়া হয়নি। তবে দ্ব›দ্ব নিরসনে কাজ করছি আমি। দক্ষিণচাঁদপুরবাসী এ দ্ব›দ্ব নিরসনের জন্য পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More