আখেরি হুইসেল বাজিয়ে ২০২০-২১ আখ মাড়াই মরসুম  সম্পন্ন 

দর্শনায় কেরুজ মিলে যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই ৯৪ আখ মাড়াই দিবসের সফলতা

দর্শনা অফিস: ৮৩ বছর বয়সী বুড়ো কেরুজ চিনিকলটি এবারের আখ মাড়াই মরসুমে চমক সৃষ্টি করলো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা মিলটি চলতি আখ মাড়াই মরসুমে একবারের জন্যও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েনি। অন্যান্য মাড়াই মরসুমের তুলনায় এবারের মরসুমে আখ মাড়াইয়ের গড়হারও তুলনামূলক বেশী। চিনি আহরণের গড়হার বৃদ্ধি না পেলেও চিনির গুনগত মান এবার বেশ ভালো। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিষদের দক্ষতা, শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের ফসল বলেই মন্তব্য সুধী মহলের। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কেরুজ চিনিকলের ২০২০-২১ আখ মাড়াই মরসুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৬২৫ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন করবে কেরুজ চিনিকল। কেরুজ চিনিকলের নিজস্ব ১ হাজার ৫৫০ একর জমিতে ২৪ হাজার মেট্রিক টন আখ, কৃষকের ৬ হাজার ৯শ ৮২ একর জমিতে ৯৪ হাজার মেট্রিকটন আখ দন্ডায়মান ছিলো। এছাড়া বন্ধ হওয়া কুষ্টিয়া জগতি চিনিকলের আওতাধীন কৃষকদের ৩৬ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই হওয়ার কথা ছিলো কেরুজ চিনিকলে। শেষ অবধি তা কমে ১৪ হাজার মেট্রিকটনে আখ মাড়াই করা হয় কেরুজ চিনিকলে। যে কারণে কেরুজ চিনিকলে এবারের মরসুমে সর্বমোট আখ মাড়াই হওয়ার কথা ছিলো ৫৪ হাজার মেট্রিকটন। গতকাল সোমবার ২০২০-২১ আখ মাড়াই মরসুমের ৯৪ দিবস। এ দিবসে সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে মিলের কেন কেরিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে আখেরি হুইসেল বাজিয়ে চলতি মরসুম বন্ধ করা হয়েছে। কেন কেরিয়ার বন্ধ করার পূর্ব পর্যন্ত এ মিলে চলতি মরসুমের ৯৪ দিবসে আখ মাড়াই করেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৬২ মেট্রিকটন। যেহেতু কুষ্টিয়া থেকে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিকটন আখ কম সরবরাহ করা হয়েছে কেরুজ চিনিকলে সেহেতু মাড়াই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ধারে কাছেই পৌঁছেছে মিলটি। বয়সের ভারে বুড়ো মিলটি চিনি আহরণের হাড় কমছে প্রতি বছরই। যে কারণে চিনি উৎপাদনের পরিমাণও কমেছে। ফলে এবারের মরসুমে চিনি উৎপাদন হতে পারে ৫ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশী। এমনই তথ্য জানিয়ে মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গিয়াস উদ্দিন বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দক্ষ পরিচালনায় এ বছর কোনোপ্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই সফলভাবে মরসুম শেষ করা সম্ভব হয়েছে। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শেখ শাহাব উদ্দিন বলেন, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও নির্ভূল নির্দেশনা থাকলে যে সব ক্ষেত্রেই সফল হওয়া যায় তার উদাহরণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাঈদ স্যার। যে কারণে এ বছরই স্মরণকালের সকল রেকর্ড ভেঙেছে মিলটি। টানা ৯৪ দিন এক মূহুর্তের জন্যও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়তে হয়নি বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া কেরুজ চিনিকলটি। ২০২০-২১ আখ মাড়াই মরসুম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধকালে কেন কেরিয়ার চত্বরে উপস্থিত ছিলেন কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাঈদ, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) রাব্বিক হাসান, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শেখ শাহব উদ্দিন, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গিয়াস উদ্দিন, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) ফিদাহ হাসান বাদশা, কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসম্পাদক খবির উদ্দিন প্রমুখ।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More